চুরির ১০ ঘণ্টার মধ্যেই স্কুটি উদ্ধার করলো পুলিশ

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:২১

 ‘একটা অসম্ভবকে তারা সম্ভব করেছেন। আমি অনেক খুশি। পুলিশ যে এত পরিশ্রম করে, এত কম সময়ে বাইকটা উদ্ধার করবে, সেটা আমার ভাবনার বাইরে ছিল। আজ আবারো মনে হচ্ছে, পুলিশ চেষ্টা করলে সব পারে।’ চুরি হওয়ার ১০ ঘণ্টার মধ্যেই  হারানো স্কুটি ফিরে পেয়ে গতকাল এভাবেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন উবারের বাইকার শাহনাজ আক্তার পুতুল।

জানা গেছে, অনলাইনভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান উবার মটোতে স্কুটি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন শাহনাজ। গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে চালানোর কথা বলে শাহনাজের স্কুটিটি চুরি করে পালিয়ে যান তার পূর্বপরিচিত জুবায়দুল ইসলাম জনি নামের এক যুবক। এরপর রাতেই এ ঘটনায় জনিকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন তিনি। পরে দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে স্কুটিটি উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় জনিকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার দুপুরে শ্যামলীতে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের কার্যালয়ে উদ্ধার করা বাইকটি শাহনাজের হাতে তুলে দেন উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার। এ সময় উপহার হিসেবে তেজগাঁও পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে দেওয়া হয় ১০ হাজার টাকা। গ্রেফতারকৃত আসামি জনিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, আসলে প্রতারণার মাধ্যমে শাহনাজকে ফাঁদে ফেলে স্কুটিটি চুরি করা হয়। পরিশ্রমী নারী শাহনাজ সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। রাজধানীর মিরপুরেই তার জন্ম। বাবা নেই, মা আর বোনেরা আছেন। সঙ্গে তার দুই মেয়েও থাকে। শাহনাজের স্কুটি চুরির খবর ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়টি ভাইরাল হয়। অনেকেই তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পরে পুলিশি তত্পরতায় বাইকটি উদ্ধার হয়। দীর্ঘ সময় রাইড শেয়ার করতে না পারার কারণে পুলিশের পক্ষ থেকে তার সন্তানদের জন্য ১০ হাজার টাকা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে বাইক উদ্ধারের পেছনে পুলিশের তত্পরতায় বিস্মিত শাহনাজ আরো বলেন, ঋণ করে স্কুটিটি কিনেছিলাম। এ স্কুটি চালিয়েই চলত আমার সংসার। মঙ্গলবার সেই সম্বলটিও চুরি হওয়ায় বেশ ভেঙে পড়েছিলাম। ভেবেছিলাম জীবনযুদ্ধে হয়তো হেরে যেতে হবে। স্বজনরা বলেছিল, ওটার আশা আর করো না। পুলিশ ওই বাইক বের করতে করতে চোর বিক্রি করে খেয়ে ফেলবে। কিন্তু সবার সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে পুলিশ বাইকটা উদ্ধার করে। এতে যে উপকার হলো, তা বলে বোঝাতে পারব না। আমি সবসময় বলে আসছি, আমি কারো সাহায্য চাই না। কেউ যদি উপকার করতে চান, তবে আমাকে একটা স্থায়ী চাকরি দিন।