গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকেও বুড়িগঙ্গার স্বচ্ছ পানি যেন ছিল ভেনিসের মতোই। যে নদীর কোলে গড়ে উঠেছে ঢাকা শহর, সেই বুড়িগঙ্গার করুণ হাল, নদীর তিরজুড়ে গড়ে ওঠা শিল্প কারখানার বর্জ্য, দখল আর নানা অনিয়ম, অসচেতনতার নির্মম খড়্গ কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে এই নদীকে। পানির বিশুদ্ধতার সব সূচক বলছে বুড়িগঙ্গার পানিতে জলজ প্রাণীর বসবাস প্রায় অসম্ভব। যে নদী ঢাকার প্রাণ সেই নদী যদি মরে যায়, তাহলে ঢাকা শহর বাঁচবে কিভাবে?
সেই বুড়িগঙ্গাকে পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন—খুব আশা জাগানিয়া একটা খবর। পুনরুদ্ধার করা হবে, তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে ১৯২৬ সালের আদলে। ১৯২৬ থেকে ১৯৪০ সালের সিএস (ক্যাটাস্ট্রাল সার্ভে) ম্যাপ অনুসরণ করে যেখানে নদী ছিল, সেই অংশকে আবারও সেই আঙ্গিকে প্রবহমান নদীর রূপে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদীকে পুরোনো চেহারায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নদীর দুপাশে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ এবং হাতিরঝিলের চেয়ে আধুনিকভাবে সজ্জিত করে নদীর দুপাড়ের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাকে দৃষ্টিনন্দন করে তৈরি করা হবে। বুড়িগঙ্গা নদীর এই আদি চ্যানেলকে ফিরিয়ে এনে প্রকল্পটা বাস্তবায়িত হলে ইসলামবাগ থেকে শুরু করে রায়েরবাজার এলাকার চেহারা আমূল বদলে যাবে। অবহেলিত কামরাঙ্গীরচর, ইসলামবাগ, লালবাগ ও হাজারীবাগসহ ঐ এলাকার নদীর দুপাশের মানুষের জীবনযাত্রার চেহারাও যাবে পালটে।
নদী আমাদের কত বড় সম্পদ—আমরা তা অনুভব করতে পারি না। আমরা আমাদের নদীগুলোকে, তার সৌন্দর্য রক্ষণাবেক্ষণে চরম উদাসীন। তাই চোখের সামনেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে নদ-নদী, হারিয়ে গিয়ে হচ্ছে ইতিহাস। দেশের প্রত্যেকটি নদী, খাল-বিল, পুকুর, জলাশয় বছরের পর বছর ময়লা-আবর্জনায় বিষাক্ত হয়ে পড়ায় হারিয়ে গেছে টলটলে স্বচ্ছ পরিষ্কার পানি। দেশের সমস্ত নদী রক্ষায় একযোগে শুরু হোক কাজ—আমরা ফিরে পেতে চাই বিশুদ্ধ জলে ভরা নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর, জলাশয়। প্রাণ ভরে উপভোগ করতে চাই তার সৌন্দর্য।
সুমনা সারমিন
গ্রিন রোড, ঢাকা
