বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। গত ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার সুরাইয়া বেগম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় করা এখন সময়ের দাবি। বঙ্গমাতার নামে নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় করার বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মো. ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে নার্সদের শিক্ষার মান আরো উন্নত হবে এবং এর মাধ্যমে জনগণ আরো উন্নত সেবা পাবে।
বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসমত আরা পারভীন বলেন, এখন নার্সরা দেশে-বিদেশে শিক্ষা অর্জন করছেন। বঙ্গমাতার নামে নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন ।
বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল শাখার সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের নার্সরা নিজ যোগ্যতায় করোনা মোকাবিলায় সাফল্য দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নার্সদের প্রাণের দাবি তার মায়ের নামে নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে নার্সদের চিরদিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপদান করবেন বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
নার্স নেতারা জানান, নার্সিং সেক্টরের আধুনিকায়ন ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। নার্সদেরকে ৩য় থেকে ২য় শ্রেণিতে উন্নীত করার ফলে নার্সদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেবা পরিদপ্তরকে অধিদপ্তরে রূপান্তর করা হয়েছে। নার্সিংয়ে মাস্টার্স (এমএসএন) কোর্স চালু করেছে এবং ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও এই কোর্সের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০০টি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার নার্স নার্সিং কোর্স শেষ করে বের হচ্ছেন। এখন বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষাকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে নার্সিং বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন জরুরি বলে তারা দাবি করেন।
