হাসান মাহমুদ রিপন
পাখি পাকা পেঁপে খায়—বাক্যটি ছেলেবেলায় তাড়াতাড়ি বলার প্রতিযোগিতায় শেষপর্যন্ত হয়ে যেত—‘পাখি পাপা পেপে পায়’। পাকা পেঁপে শুধু পাখিই নয়, আমাদেরও প্রিয়। পেঁপে অত্যন্ত খাদ্যমান সমৃদ্ধ ফল এবং সবজিও বলা চলে। পাকা অবস্থায় ফল এবং কাঁচা অবস্থায় সবজি। পেঁপে রোগ প্রতিরোধক খাবারও। পেঁপের উত্পত্তিস্থল আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকা। ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, চীন, মিয়ানমার, হাওয়াই, ফ্লোরিডা প্রভৃতি স্থানে পেঁপে অন্যতম প্রধান ফল এবং বাংলাদেশের সর্বত্র জনপ্রিয়। চৈত্র-বৈশাখ মাসে পেঁপের চারা লাগানো সবচেয়ে নিরাপদ ও লাভজনক। সাধারণত সব ধরনের মাটিতেই পেঁপে জন্মে। তবে দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি পেঁপে চাষের জন্য উত্তম। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় হাজারী, যশোরী, হাটহাজারী ইত্যাদি হরেকরকম পেঁপে চাষ হয়। আজকাল বিদেশি ও উন্নত জাতের পেঁপে চাষ হচ্ছে। তার মধ্যে আছে তাইওয়ানের কয়েকটি উচ্চ ফলনশীল জাতও। সবগুলোই শংকর জাত। পাকা পেঁপে অন্যান্য ফলের তুলনায় দামে অনেক সস্তা।
পেঁপে পুষ্টিগুণে ভরপুর। সারা বছর সব জায়গায় পাওয়া যায় বলে সবজি ও ফল হিসাবে পেঁপের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। প্রায় সব ধরনের পুষ্টি উপাদানই পেঁপেতে রয়েছে। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে ৮১০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন থাকে। এর প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ অর্থাত্ ১৩৫০ মাইক্রোগ্রাম রিটিনল সমতুল্য বা ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়ে আমাদের শরীরে কাজে লাগে। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’-ও পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা পেঁপেতে ৫৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ থাকে। একজন পূর্ণবয়স্ক লোকের প্রতিদিন ৩০ মিলিগ্রাম ও বাচ্চাদের ৩৫ গ্রাম পেঁপে খেলেই ভিটামিন ‘এ’ সেইসঙ্গে ভিটামিন ‘সি’-এর চাহিদাও পূরণ হয়। কাঁচা পেঁপেতে লৌহ, চর্বি, ভিটামিন ‘বি’ এবং আঁশ পাকা পেঁপের চেয়ে বেশি থাকে। আরো থাকে পিপসিন নামে জারক রস, যা আমিষ হজমের জন্য প্রয়োজন। কাঁচা পেঁপে থেকে হালুয়া, পায়েস, স্যুপ, সালাদ, আচার ইত্যাদি সুস্বাদু, মুখরোচক ও পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা যায়। পুষ্টির চাহিদা পূরণে পেঁপের ভূমিকা অতুলনীয়।
