সোনারগাঁও ইকোনমিক জোনের কার্যক্রম অবৈধ: হাইকোর্ট

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৪১

নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁও ইকনোমিক জোন স্থাপনের নামে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ছয় মৌজায় প্রায় দুই হাজার বিঘা পরিমাণ কৃষি ও জলাভূমি এবং মেঘনা নদীর অংশ বিশেষ ভরাট কার্যক্রমকে অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করতে সোনারগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ নিরূপণের পর ছয় মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বুধবার এ সংক্রান্ত রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ রায় দেন বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। 

রায়ে বলা হয়েছে, পানির অপর নাম জীবন, পরিবেশের অপর নাম শান্তি। সোনারগাঁও উপজেলার ছয়টি মৌজার এক হাজার ৮৬৮ বিঘা পরিমাণ কৃষি ও জলাভূমি এবং মেঘনা নদীর অংশ বিশেষ প্রথমে সোনারগাঁও রিসোর্ট সিটি ও পরে সোনারগাঁও ইকনোমিক জোন স্থাপনের নামে ভরাট করা হচ্ছে। যে নামেই মাটি ভরাট করা হোক না কেন তা পরিবেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই ভবিষ্যতে কোন ইকনোমিক জোন স্থাপন করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তর ও নদী রক্ষা কমিশন থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনাপত্তি পত্র নিতে হবে। যদি এটা না করা হয় তাহলে পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না। 

২০০৯ সাল থেকে সেনারগাঁওয়ের ৬টি মৌজায় (পিরোজপুর, জৈনপুর, ছয়হিস্যা, চরভবনাথপুর, বাটিবন্ধ এবং রতনপুর) মাটি ভরাট কার্যক্রম পরিচালনা করছিলো ইউনিক প্রোপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। সোনারগাঁও রিসোর্ট সিটি তৈরির লক্ষ্যে এ প্রকল্প নেয়া হয়। এই ৬টি মৌজায় কৃষিজমি, নিচু ভূমি, জলাভূমি রয়েছে। এই মাটি ভরাট কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেন পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। ২০১৪ সালে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ঐ মাটি ভরাট কার্যক্রমকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। 

এছাড়া মাটি ভরাট কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি ভরাটকৃত মাটি অপসারণের আদেশ দেয়া হয়। হাইকোর্টের এই আদেশের পর সোনারগাঁও রিসোর্ট সিটি নির্মাণের পরিবর্তে সেখানে ইকনোমিক জোন স্থাপনের প্রকল্প নেয় ইউনিক প্রপার্টিজ। এরপর হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন চেয়ে ২০১৬ সালে আবেদন করে ইউনিক প্রপার্টিজ। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট পূর্বের আদেশ কিছুটা সংশোধন করে মাটি ভরাট কার্যক্রম পরিচালনার আদেশ দেয়। ঐ আদেশ স্থগিত করে আপিল বিভাগ। 

বেলার প্রধান অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানান, আপিল বিভাগের আদেশ উপেক্ষা করে মাটি ভরাট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল ইউনিক প্রোপার্টিজ। এরপর দায়ের করা হয় আদালত অবমাননার মামলা। ঐ মামলার শুনানিকালে পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে মাটি ভরাট কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর ২০১৮ সালে আপিল বিভাগ মাটি ভরাট কার্যক্রম বন্ধ রাখতে আদেশ দেয়। একইসঙ্গে হাইকোর্টে রুল শুনানি করতে মামলার পক্ষগণকে আদেশ দেয়। ঐ আদেশের পর হাইকোর্টে রুল শুনানি হয়। শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়। 

আরো পড়ুন: রংপুর বিভাগে করোনায় ২ জনের মৃত্যু

রায়ের পর রিজওয়ানা হাসান বলেন, আদালতের এই রায়ের ফলে সোনারগাঁও রিসোর্ট সিটি ও সোনারগাঁও ইকোনমিক জোনের নামে গৃহীত সকল কার্যক্রম অবৈধ বিবেচিত হবে। এছাড়া জলাশয় রক্ষা পাবলিক ট্রাস্ট বিবেচনায় এখন থেকে ইকোনমিক জোন করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান গুলোকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পূর্বে নদী রক্ষা কমিশন থেকে অনাপত্তি এবং পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। 

আদালতে বেলা’র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী ফিদা এম. কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সাঈদ আহমেদ কবীর এবং অপর পক্ষে ছিলেন মুরাদ রেজা ও আহসানুল করিম প্রমুখ। 

ইত্তেফাক/এএএম