ভালুকা, ময়মনসিংহ জেলার একটি উপজেলা। তাই কড়চা আলোচনা করার প্রারম্ভেই এ জেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতির, বিশেষ করে লোক-সংস্কৃতির সমৃদ্ধির কথা খানিকটা তুলে ধরলে বোধকরি খোদ ভালুকার লোকসাহিত্য তথা, লোক-কড়চার বোধগম্যতা ও এর মধুরস সঞ্জাতে সহজ হবে। ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’র কথা শোনেননি, বাঙালি সাহিত্য ও সংস্কৃতির ছোট-বড় বোদ্ধাদের মধ্যে এমন লোক কমই আছেন। বিশাল এ লোকজ ভাণ্ডার বৃহত্তর ময়মনসিংহের এক অপার সম্কদ, যা বাংলাদেশ ও বিশ্বের আপামর বাঙালিকে এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের পরিচয়ে ঋদ্ধ করেছে। যদিও সে আমলে বৃহত্তর এ জেলার পাঁচটি মহকুমার (১৯৮৪ সাল থেকে শেরপুর-সহ মহকুমাগুলোর মোট ছ’টি জেলায় আত্মপ্রকাশ) ভাষা ও সংস্কৃতির স্বল্প-বিস্তর ভিন্নতা লক্ষ করা গেছে, তবুও একথা অনস্বীকার্য যে ভাটি অঞ্চলের মহকুমা বলে খ্যাত, নেত্রকোনার সম্কদেই মৈমনসিংহ গীতিকার পাল্লা ভারী ছিল। তাই সব মিলিয়ে লোক-সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে ময়মনসিংহকে একটি লোকজ সাগরই বলা চলে। তবে, সাগরে পৌঁছানোর আগে যেমন ছোট-বড় নদ-নদীর অববাহিকা বিদ্যমান, দীর্ঘপথ এসব স্রোতস্বিনী বরাবর পাড়ি দিয়ে তবে প্রবাহের শেষ গন্তব্য—সাগরের মোহনা, তেমনি সাগরের সেই বিশালতায় না গিয়ে শুধুমাত্র ‘ভালুকার লোক-কড়চা’র মতো একটি ছোট নদীসদৃশ বিষয়ের লোকরস ব্যঞ্জনাতেই আমার আজকের প্রতিপাদ্য সীমাবদ্ধ রাখতে চাই।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাঝখানে ভালুকার অবস্থান। এ উপজেলার একাংশে ছিল মুক্তাগাছার জমিদারি স্টেটের নিয়ন্ত্রণ এবং অপর অংশ ভাওয়াল রাজার পরগণাধীন। ফলে ঐতিহ্যগত দিক থেকে অঞ্চলটি ছিল ক্ষিরু-সুতিয়ার অববাহিকায় সমৃদ্ধ। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে এ অঞ্চলের সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভুবনে স্বনামখ্যাত এক ব্যক্তিত্ব শহীদ বিনোদ বিহারী চক্রবর্তী, যিনি জীবদ্দশায় গান-বাজনা, যাত্রা-নাটক রচনায় ও অভিনয়ে যেমন শুদ্ধ ও প্রমিত বাংলা ভাষার স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনি ভালুকার আঞ্চলিক ভাষারও ব্যাপক মঞ্চায়নী ভূমিকা রেখে গেছেন। ‘গফুর বাদশাহ্ ও বানেছাপরী’ কিস্সাকে বিনোদবাবুর গীতিনির্ভর নাট্যরূপে বালক বাদশাহ গফুরের পত্নী কলাবতীর তেলেভাজা পিঠা খেয়ে যে অজীর্ণতার শিকার হতে হয়, তা কলাবতী স্বীয় শাশুড়িকে ভালুকার আঞ্চলিক ভাষায় গান গেয়ে তার অনুভূতি প্রকাশ করে নিম্নরূপে—
‘আরে ও আম্মাজা-য়া-য়ান, তেলের পিডা খাইয়া গো আম্মাজান,
পেডে গুড্ গুড্ কহ-অহ রে এ- এ- গো’।
অর্থাত্, পিঠা খেয়ে অজীর্ণতার জন্য পেটে ভুটভাট শব্দ করা। এ কিস্সা পালায় বাদশাহর কলাবতী ছাড়াও সহরবানু নামে আর একজন পত্নী ছিল, দুজনার চরিত্র ভিন্ন, জ্যেষ্ঠা কলাবতী যেমন পতিব্রতা, সহরবানু আবার—‘যখনি যাহার, তখনি তাহার’ মতো সুযোগসন্ধানী। গফুরের পিতার রাজত্বকালে নিয়োজিত কালাউজির তেমনি এক লোভী ও নেমকহারাম উজির, যে বাদশাহ গফুরের সময়েও সমাসীন ছিল। তাই একদিন শিকারের নাম ধরে গফুরকে গভীর বনে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয় কালাউজির। স্ত্রী কলাবতীর প্রবল আপত্তিকে উপেক্ষা করে বালক বাদশাহ উজিরের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে চলে যায় শিকারে। দিনকয়েক পর যখন উজির নিজ ঘোটকে আরোহী হয়ে সাথে সওয়ারবিহীন বাদশাহর ঘোড়া নিয়ে প্রসাদ অভিমুখে ফিরে আসে, তখন বিরহিনী কলাবতী (যে স্ত্রী সারাক্ষণ তাদের গমনপথে তাকিয়ে অশ্রু বিসর্জন করত) সেদিন সেই ঘোড়াকে দেখে যে আহাজারি গীত গায় তা—
‘আরে ও আম্মাজা-য়া-য়ান,
গফুর বাদশাহ্র ঘোড়া গো আম্মাজান,
খালি খালি আইয়ে-এ-এ গো।
খালি ঘোড়া আইয়ে গো ও-ও-ও আম্মাজান,
বাদশাহ্ নাই তার সা-য়া-য়াথে গো;
ও আম্মাজান,...’।
বনের দৈত্যরাজ ভিসিংদেও বাদশাহ গফুরকে ধরে নিয়ে যায়, কিন্তু উজির এসে বাদশাহর মাকে জানায় যে গফুরকে বাঘে খেয়ে ফেলেছে। এই সুযোগে শূন্য সিংহাসনে কালাউজির গায়ের জোরে আরোহণ করে বাদশাহর দুই স্ত্রীকে বিবি বানাবার প্রস্তাব দিলে কলাবতী প্রত্যাখ্যান করলেও সহরবানু রাজি হয়ে যায়। কিস্সাটিতে নাট্যরূপদানকারী বিনোদ বাবু কয়েকটি কাল্পনিক চরিত্রের সৃষ্টি করেন। তারই একটি মোসাহেবি চরিত্রের নাম—‘নাইরা উজির’। কালাউজিরের সংবাদ আদান-প্রদানকারী নাইরা... ল্যাংড়ার ন্যায় কিছুটা পা টেনে হাঁটে। এই নাইরা সহরবানুর কাছে উজিরের চিঠি পৌঁছে দিলে সহরবানুর উচ্ছ্বসিত গান—
‘আরে ও-ও-ও নাইরা-আ-আ-আ,
রাইতে আইয়ো, রাইতে গো যাইয়ো,
দিনের ক-হ-রি মাহ্-আহ্-না-আ-আ গো।
রাইতে আইয়ো, রাইতে গো ওহো যাইয়ো,
দিনের করি-ই মা-আ-আনা গো। ও-ও-ও-
আরে ও নাইরা,...’
ওপরের গান তিনটি একই কিস্সার হওয়ায় এগুলোর মর্মার্থ ও সুর সারা বাংলায় প্রায় অভিন্ন হলেও স্থানভেদে ভাষার ভিন্নতা রয়েছে, যেগুলোর ভালুকা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাসমূহের আঞ্চলিক ভাষায় আমরা এক ব্যঞ্জনাময় মধুরসের গীতরূপের প্রয়াস পাই।
কিস্সায় নাইরা উজির অনেকটা রসিক ধরনের কর্মচারী। তাই, পালাগানে বৈচিত্র্য আনার নিমিত্তে বিনোদ চক্রবর্তী কিস্সার গতানুগতিক সুরের ধারার বাইরে গিয়ে একান্ত নিজস্ব ব্যতিক্রম কথা ও সুরে যে গানটি তিনি নাইরার মুখে গাওয়ানোর জন্যে নির্বাচন করলেন, সেটা—
‘খসম, তুমি বাড়িত্ আইলা না;
কত পানি-পান্তা পইড়া রইছে,
খাইবার চাইয়া খাইলা না।
খসম, তুমি বাড়িত্ আইলা না।।
কইয়া গেছলা—‘বাজারো যাই’,
এক দিন, দুই দিন, তিন দিন চইলা যায়,
তুমার দেহা নাই। তুমার পোলাডায় কয়—
‘ও বাজান বাজান গো, যাইবার কালে
ছালুন খাইয়া গেলা না’।
খসম তুমি,... ... আইলা না।।’
বলা বাহুল্য, এ অঞ্চলের প্রায় সিংহভাগ মানুষ ‘তোমার’ উচ্চারণটা ‘তুমার’ বলে করে থাকে।
এবার আসা যাক, ভালুকার কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের উক্তি ও ছন্দাকার কড়চায়। উপজেলার ‘জামিরাপাড়া হাই স্কুল’-এর ভূতপূর্ব মৌলভী সাহেব, জনাব আব্দুল কাদির বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে ধর্ম বিষয় পড়াতেন। তাই, যখন তিনি নবম শ্রেণিতে আরবি পড়াতেন, তখন ওই শ্রেণির ১. মোহিত ভৌমিক, ২. রঞ্জন গুহ, ৩. নির্মল সাহা এবং ৪. ধরণী পাল ছাত্র চতুষ্টয় সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাদেরকে পার্শ্ববর্তী কক্ষে গিয়ে হিন্দুধর্মের পাঠ নিতে হতো। ভৌগলিক ও সামাজিক কারণে তাদের বাড়ি ছিল উপজেলার বিরুণীয়া, কাইচাঁন ও রাজৈ গাঁয়ে। মজার ব্যাপার হলো, জামিরাপাড়া হাই স্কুলে যেতে এ তিন গাঁয়ের ছাত্রদের ‘মড়াধনঞ্জয়’ নামে একটি নদী নৌকো করে পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। মৌলভী সাহেব কিছুটা রসিক এবং জাতিধর্ম নির্বিশেষে অত্যন্ত স্নেহ-বত্সল ব্যক্তি ছিলেন। একান্ত অনুগত ওই চার ছাত্রের ধর্মশিক্ষার নিমিত্তে পাশের কক্ষে যাওয়ার সময় আপনজনের ক্ষণিকের বিদায় অভিনন্দন জানানোর মতো তাদের নামোল্লেখ-পূর্বক ছন্দাকারে তিনি যে রসবোধ সম্কন্ন কড়চা শুনিয়ে শ্রেণিকক্ষের চার জন-সহ সকল ছাত্রদের আনন্দ দিতেন তা—
‘মোহিতো, রঞ্জনো, নির্মলো, ধরণী;
মড়াগাঙ পাড়ি দিতে লাগে একখান তরণি’।
লক্ষণীয় যে, এলাকার মড়াধনঞ্জয় নদীটি ‘মড়াগাঙ’ বলেই সমধিক পরিচিত।
বিরুণীয়া গাঁয়ের সোম বাড়ির সর্বপ্রয়াত চার ভাই—১. ঈশ্বর সোম, ২. জগত্ সোম, ৩. মুকুন্দ সোম ও ৪. সতীশ সোম, যাঁদের সন্তান যথাক্রমে—কীর্তি (মেয়ে), লীলা (মেয়ে), সুশীল (ছেলে) ও বাসনা (মেয়ে)—যাদের সবাই আজ ইহজগতে আছেন কি-না জানা নেই। কোন রসিকজন তাদের পিতার নামের সাথে স্ব-স্ব সন্তানদের নিয়ে একটি শ্লোকধর্মী কড়চা তৈরি করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে কড়চাটা সংশ্লিষ্ট সকল প্রয়াত ও জীবিত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি—
‘ঈশ্বরের কীর্তি, জগতের লীলা,
সতীশের বাসনা, মুকুন্দের পোলা;
এই শিলুকটা না ভাঙ্গাইতে পারলে—
মুচারের হালা’।
বিরুণীয়া গ্রামটি শিক্ষায় ও সংস্কৃতিতে ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকেই অগ্রগামী। এ অঞ্চলের সর্বজনশ্রদ্ধেয় প্রবীণ শিক্ষক ছিলেন শশাঙ্ক ভৌমিক। শিক্ষায় ও ভিলেজ পলিটিক্সেও তিনি ছিলেন প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী। তাঁরই জ্যেষ্ঠ পুত্র—সুরঞ্জন ভৌমিক (ডাক নাম-লেদু), যিনি পর্যায়ক্রমে হাই স্কুল ও প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদে থেকে বর্তমানে অবসর জীবন কাটাচ্ছেন। সাংস্কৃতিক মনোভাবাপন্ন এই ব্যক্তির রাজনৈতিক সচেতনতা যথেষ্ট থাকলেও গাঁয়ের গভীর পলিটিক্সে কখনো মনোনিবেশ করতে চাননি। বলা যায়, শান্তশিষ্ট এই শিক্ষাব্রতীর রয়েছে অগণিত গুণমুগ্ধ ছাত্র-ছাত্রী। ইউনিয়নের এক সময়কার চেয়ারম্যান সাহেব (যিনি শশাঙ্কবাবুর ছাত্র ছিলেন) তাই শিক্ষক পিতা-পুত্রের ক্রিয়া-কর্ম ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে যে মুখরোচক শ্লোক সাধারণ্যে আওড়িয়ে মিশ্র রসবোধ উপহার দিতেন, তা নিম্নরূপ—
‘স্যারের নাম শশাঙ্ক,
বুদ্ধি রাখে অসংখ্য;
তাঁর পুত লেদু,
এইডা একটা চদু’
এখানে ‘চদু’ বলতে তিনি গোবেচারা, সরল-সোজা বোঝাতে চেয়েছেন। মরহুম এই ছান্দসিক চেয়ারম্যান সাহেবের এমন অসংখ্য লোক-ছন্দ বা লোক-কড়চা এ অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে আজো শোনা যায়।
আগেই বলা হয়েছে, ভাওয়াল ও মুক্তাগাছার জমিদারির সংযোগস্থল এই ভালুকা। গাঁয়ের (এমনকি সারা দেশের) কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী বাড়িতে গাভী প্রসব করলে এগারো দিনের মাথায় তুলসী গাছের তলায় গোরক্ষনাথের পাঁচালী পাঠ করে আরাধনা করা হয়। গৃহস্থের মতে ওই দিন থেকে গাভী ও সদ্যভূমিষ্ঠ বাছুরকে পরিশুদ্ধ করা হয়। গোরক্ষনাথের পাঁচালী বিভিন্ন স্থানে প্রায় একই হলেও এ অঞ্চলের গোরক্ষনাথ-ভক্ত রসিক ব্যক্তি প্রয়াত আশুতোষ ভৌমিক (দাগু ঠাকুর) তাঁর নিজস্ব আঞ্চলিক ভাষায় পুঁথি পাঠের ন্যায় অনায়াসেই গোরক্ষনাথের পাঁচালী মুখস্থ বলতে পারতেন আর তাঁর দু’পাশের আবালবৃদ্ধবণিতা দোহারের মতো ফাঁকে ফাঁকে ধ্বনি দিতেন, যেমন—
দাগু বাবু :গাইয়ের নাম ছালাবুড়ি,
দুধ দেয় আডারো পাইরি ;
দোহার : হাইচ্চো।
দাগুবাবু : রাজায় খায়, প্রজায় খায়,
আরো দুধে গড়াগড়ি যায়;
দোহার : হাইচ্চো।
প্রসঙ্গত পাঁচালীর ভাষায় কিছু অংশ সন্নিবেশ করলে আশাকরি গোরক্ষনাথ পাঠের পুঁথির শিল্পরসটা উপভোগ্য হবে। যেমন—
‘ওহে ওহে কামার ভাই,
মোর গোরক্ষের কাঁচি চাই;/হাইচ্চো।
যদি কাঁচি না দিবে রে ভাই,
তোর গরু হইবে ছাই;/হাইচ্চো।
বল্ রে ভাই, শ্যাম সুবল, শ্যাম সুবল;/হাইচ্চো।
এমন ‘কাঁচি’ স্থলে ‘হাঁড়ি’ দিয়ে মেমন—ওহে ওহে কুমার ভাই,/মোর গোরক্ষের হাঁড়ি চাই;/হাইচ্চো।... ...’
ভালুকা উপজেলার বিরুণীয়াকে কড়চার সূতিকাগার মনে করা হয়। এ গাঁয়ের প্রয়াত অধর বাইন্যা (অধর বর্মণ)-এর মুখে শ্রুত একটি শ্লোকধর্মী লোক-কড়চা আজ বিলুপ্তপ্রায়। কংশেরকুল, বিরুণীয়ার স্কুল-পাঠশালাগুলোতে শিশু-কিশোরদের যাওয়ার পথে বৃদ্ধ বাইন্যা একটি কাঁঠাল গাছের শিকড়ে বসে থাকতেন। খেয়ালবশত তিনি মাঝে মাঝে ছেলেদেরকে কাছে ডেকে নিয়ে বলতেন, ‘ক’ দেহি—
‘আডো গেলো বলদা ছদু,
কিইন্যা আনলো ত্রিশটা কদু;
এক পয়সা দ্যা ত্রিশটা কদু,
ত্রিশ পয়সা দ্যা কয়ডা কদু?
এখানে হাটে যাওয়া এক বোকা লোকের কথা তিনি বলতে চেয়েছেন, যাতে কদু মানে লাউ আর ছদু মানে বলদকে বুঝিয়েছেন। গোবেচারা ছেলেরা তাঁর এ ছন্দোময় গাণিতিক সমস্যার সমাধান খুঁজতে গলদঘর্ম হয়ে পড়ত।
কড়চা আলোচনা শেষ করার আগে ভালুকার গুটিকয় প্রবাদ, যেমন—
১. বাপ-দাদার নাম নাই, চান মড়লের বেয়াই, ২. দীনায় কাঁনলে যুগলায় ঠার পায়, ৩. পাছা নাই তো লুডা কিনি হাগিবার, ৪. তলি নাই লুডার চৌদ্দ আনা দাম, ৫. আত্তির লেদা দেইক্যা ফইড্যা কুঁতায়।
উল্লেখ্য যে, ২ নং প্রবাদে দীনা দাস ও যুগল দাস নামে দুই ভাই এমনি একাত্ম ও পরস্করের প্রতি সংবেদশীল ছিল যে একের বোধ অপর জনে আন্দাজ করতে পারত। সর্বশেষ অর্থাত্, ৫ নং প্রবাদে আত্তি মানে হাতি, বিশাল এ প্রাণীর মলত্যাগেও যে থাকবে বিশালতা, এটাই স্বাভাবিক; তা দেখে ফইড্যা মানে খরগোসেরও চেষ্টা, তেমন বিরাট আকারের বিষ্ঠা ত্যাগের এক অসম্ভব ইচ্ছা। প্রবাদগুলো রূপকার্থে এলাকায় ব্যাপকভাবে লোকমুখে শোনা যায়।
পরিশেষে সন্দিগ্ধচিত্তেই বলা—ভালুকার লোকজ কৃষ্টি ও সংস্কৃতির কাটখোট্টা শুষ্ক বৃক্ষ থেকে কতটুকু শিল্পরস সংগ্রহ করে পাঠককুলে উজাড় করে দিতে পেরেছি, তা সম্মানিত পাঠক-সুহূদগণই ভালো বলতে পারবেন।
