কোনো এক অভিমান দিনে
আমাদের পাকাকথা হলো—
যা হয়েছে, থাক
ভুলে যাবো, ভুলে যাবে সবি...
মাত্র তো দু’দিন গেছে
সেদিনের সেই কথা আমাদের মনে কিছু নেই
কোনো কোনো কথা
ভুলে যাওয়া কী যে ভালো কাজ!
পুরোনো প্রেমের পথে আমাদের দেখা হলো আজ
২.
প্রত্যহ তোমাকে পড়ি। লিখি। শুনি। নানা রঙে আঁকি
তবু কেন মনে হয় কত দেখা কত বলা থেকে আছে বাকি
৩.
কখন কী কাজ করো—মুখস্থ আমার
যখন আলস্যে থাকো, এলোমেলো, একা
স্তূপাকার কাজগুলো পড়ে থাকে—বাসি...
আমার বাসনা হলো সদ্যস্নাত গন্ধরাজ দেখা
সবুজ তোয়ালে ঘাড়ে, গোসলের ঘর থেকে বেরুবে কখন
সময় হিসাব করে পায়ে পায়ে ঠিক চলে আসি
৪.
থাকলে না যখন, থাক! ভাঙা পথ আমি একা থাকি
বৈশাখী মেলায় দেখা অন্ধ গায়কের
বুকের সামান্য পাশে ঝুলে থাকা দোতারার মতো
তোমার না-থাকাটুকু বহু যত্নে মনে তুলে রাখি
৫.
ভোর করে এলে
আমাদের দেখা হলো বাগানের পথে
সামান্য মামুলি কিছু কথা
হেঁটে-হেঁটে বসেছি যখন
ছুঁয়ে রাখলে হাত
চক্ষুবোজা অন্ধকারগুলো
হয়ে গেল আলোর আকাশ
বাতাসের কণ্ঠে কণ্ঠে সুমধুর গান...
সামান্য মুহূর্ত মাত্র, ধুয়ে গেল পৃথিবীর সকল বিষাদ
৬.
আরো একটু বেশি থাকব, আরো একটু বেশি দেখব, তাই
সকালের শুরু থেকে এত ঘন তাড়া
কখন যে আসবে গাড়ি! অপেক্ষায় না থেকে বরং
হেঁটে চলে যাই
হূদয়ে প্রেমের দিন। বিপুল আনন্দে আমি সর্ব আত্মহারা।
৭.
যেতে যেতে যখনই সে গভীর তাকাল
নিভে গেল ক্ষতিকর সকল আগুন
বিনীত বাতাস বেয়ে এল কত গান
যে দিকে দু’চোখ যায়—হেসে আছে জ্যোতির্ময় আলো
৮.
না থাকলে থেকো না কাছে। অবজ্ঞার ছাই-ভস্ম হাতে
আমি না হয় দাঁড়িয়ে থাকব সময়ের মনভাঙা পাড়ে
ভালো মন্দ যা-ই হোক দিন কেটে যাবে
কেউ একা জিতে যায়, কেউ একা শুধু শুধু হারে
৯.
সময়ের মাপজোখ নেই। তুমি আর আমি
কতদিন, কত-কত দিন
ভেসেছি কথার স্রোতে রেস্তোরাঁর নিরিবিলি কোণে
আজ এসেছি প্রথম একা
ওয়েটার এলে
বলেছি তোমার প্রিয় খাদ্যসূচি, আর
দু’কাপ কফির কথা
তুমি যে হারিয়ে গেছ, (কী মুশকিল!)
এত বেশি ভুলে যাই কেন!!
১০.
কয়েক মুহূর্ত মাত্র, এর কিছু আগে পরে হলে
কখনো হতো না দেখা তোমার আমার
তোমার বন্ধুর বাড়ি। বেরুচ্ছিলে একা
আমার বন্ধুর বন্ধু। আমাদের ফেরার সময়
দৈববশে কী যে এক দেখা হয়ে গেল...
সেই দেখা এখনো তো প্রবাহিত আছে
এত কাছে, এত দূরে, দূরে-দূরে, এত-এত কাছে
