মূল :জুডিথ বেকার, পুনর্লিখন :মোস্তাফিজুল হক
সবাই জানে, হাতির আছে বিশাল লম্বা এক নাক। তবে বহুদিন আগে হাতির এই নাকটা ছিল খাটো আর মোটা। তখন ওটা ছিল মুখের ওপর ঠিক জুতোর মতো।
একবার এক হাতির বাচ্চা হলো। সেই পিচ্চি হাতি সবকিছুই জানতে চায়। সে বনের সকল পশুকেই নানান প্রশ্ন করে।
পিচ্চি হাতিটা একদিন জিরাফকে বলল, ‘তোমার গলা এত্তো লম্বা কেন, ভাইয়া?’
এরপর সে ভীষণ আগ্রহ নিয়ে গণ্ডারকে বলল, ‘ভাইয়া, তোমার শিং এতো ধারালো কেন?’
জলহস্তী নিয়েও তার আগ্রহের শেষ নেই। তাই সে জলহস্তীর কাছে জানতে চাইল, ‘তোমার চোখদুটো এতো লাল কেন, আপু?’
সবশেষে তার কুমির সম্পর্কে জানার খুব আগ্রহ। সে তার মাকে বলল, ‘মা, কুমির রাতের বেলা কী খায়?’
মা জবাব দিলেন, ‘কখনো এরকম প্রশ্ন করবে না!’ মায়ের কথায় সে অনেকটা হতাশ হলো। এরপর সে মায়ের নিকট থেকে সরে আসতেই কোত্থেকে একটা কাক ফুড়ুত্ করে তার কাছে এল।
‘আমাকে অনুসরণ কর। নদীর কাছে নিয়ে যাব। সেখানে গিয়েই তুমি দেখতে পাবে, কুমির রাতের বেলা কী খায়।’ বলেই কাক আবার উড়তে শুরু করল।
পিচ্চি হাতিটা কাককে অনুসরণ করে নিচে নামতে থাকল। পরে সে নদীর ধারে ঠায় দাঁড়িয়ে রইল। পানির দিকে তাকিয়েও রইল। ‘কিন্তু, কোথায় কুমির?’ মনে মনে বলল।
নদীর তীরে বিশাল বড়ো এক পাথর ছিল। পিচ্চি হাতিটা ওটাকে বলল, ‘এই যে, আপনি কি আমাকে বলতে পারবেন, কুমির রাতের বেলা কী খায়?’
‘নিশ্চয়ই বলব। তোমাকে নিচু হতে হবে যে! নিচু হলেই দেখতে পাবে।’
এবার হাতিটা আরো নিচে নেমে মাথা নিচু করে ঘাড় বাঁকিয়ে পানির দিকে তাকিয়ে রইল।
‘ঝপাং!’ হঠাত্ করে শব্দ হলো। কুমিরের চোয়ালে পুঁচকে হাতির নাকটা আটকে গেল!
এটা দেখে কাকের সে কী আনন্দ! ‘কুমির রাতের খাবার হিসেবে তোকেই খাবে!’ বলেই দুষ্টু কাক পালিয়ে গেল।
পুঁচকে হাতিটা এবার তার শক্ত পায়ে ঘুরে দাঁড়াল। সে টানছে আর টানছে। তবে কুমিরও তার নাক ছেড়ে দিতে রাজি না। হাতিটার নাক লম্বা থেকে আরো লম্বা হতে থাকল। তারপর একটা শব্দ হলাৈ, ‘ঠাস!’ এবার সেই লম্বা নাকটা এসে পুঁচকে হাতির পিঠে পড়ল। কুমিরটা
পানিতে ডুব দিল। রাতের খাবার হাতছাড়া হলে তার কিছুটা রাগও হলো।
কৌতূহলী সেই পিচ্চি হাতি এবার তার নাকের দিকে তাকাল। ওর নাকটা এখন এতটাই লম্বা, শেষটা কোথায়, সে দেখতে পেল না! তার নাক এতই দীর্ঘ যে সে উঁচু গাছ থেকেও ফুল ও ফল ছিঁড়ে আনতে পারে। সে নাক দিয়ে পিঠে পানিও ছিটাতে পারে।
অলংকরণ
মাশরুর রহমান মুহিত
সপ্তম শ্রেণি
বি.এ.এফ শাহীন কলেজ ঢাকা
