কাউখালীতে উপজেলা নির্বাচন; সরব আওয়ামী লীগ, নীরব বিএনপি

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৮

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগ্রহের শেষ নেই পিরোজপুরের কাউখালীর তৃণমূলে। চায়ের টেবিল থেকে রাজনীতির টেবিল পর্যন্ত কাউখালীর সর্বত্র চলছে আগামী উপজেলা নির্বাচন এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে কাউখালীর রাস্তাঘাট।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় প্রার্থীরা আটঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছেন। এলাকায় শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির (জেপি) থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। অপরদিকে বিএনপি নীরব। দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে নবীন-প্রবীণ দেড় ডজন হেভিওয়েট প্রার্থী চষে বেড়াচ্ছেন ভোটারদের বাড়ি। তাদের লক্ষ্য একটাই যে করেই হোক দলীয় মনোনয়ন চায়।

ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ থেকে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এলাকায় গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়াম্যান মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার পল্টন, উপজলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মিঠু, কাউখালী সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আমিনুর রশীদ মিল্টন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল। 

উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়প্রত্যাশী হিসাবে ইতিমধ্যে মাঠে গণসংযোগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শাহীন মাহামুদ, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক লাইয়েকুজ্জামান মিন্টু তালুকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মৃদুল আহম্মেদ সুমন। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে গণংসযোগ করতে দেখা গেলেও বিএনপি ও অন্য দলের কাউকে এখনও মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

মনিরুজ্জামান পল্টন চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্য উপজেলা জুড়ে চষে বেড়াচ্ছেন এবং ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। ৩য় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার পর বিভিন্ন ইউনিয়নের রাস্তাঘাটে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ সব শেষ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। গত  উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনিত উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন।

কামরুজ্জামান মিঠু। তিনি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে গত পাঁচ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষ্যে গ্রামে গ্রামে গণসংযোগ করছেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তিনি নিজের যোগ্যতায় অবস্থান ধরে রেখেছেন।

আমিনুর রশীদ মিল্টন। তিনি  কাউখালী সদর ইউনিয়নের দুইবারের নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি থাকা অবস্থায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সামাজিক বিভিন্ন দরবার সালিশে দল মতের ঊর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করায় এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

বিশ্বজিৎ পাল। তিনি নির্বাচনে একবারেই নতুন মুখ। বিগত সংসদ নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই উপজেলায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি।একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পিরোজপুর-২ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তিনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

আবু সাইদ মিয়া মনু। জাতীয় পার্টির জেপির এই নেতা সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।তিনি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন।

এলাকার ভোটাররা জানায়, এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার আনতে ও এলাকার রাস্তাঘাটের সমস্যা নিরসনে ও এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়াতে দলের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ও স্বচ্ছ মনের মানুষকে এ আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চায়।

আরও পড়ুনঃ সাভারে ট্রাকভর্তি ছাগল ছিনতাই

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাউখালী উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালে। প্রথম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টিও কাজী হারুন আর রশীদ। ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কাজী হারুন আর রশীদ। ১৯৯২ সালে উপজেলা পরিষদ বাতিল হওয়ায় ২০০৮ সাল পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হয়নি। ২০০৯ সালে পুনরায় উপজেলা পরিষদের নির্বাচন হলে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন কাউখালী উপজেলা  বিএনপির সভাপতি এস,এম আহসান কবীর। ২০১৪ সালেও তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে অদ্যবর্তী পর্যন্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ইত্তেফাক/নূহু