বরিশালে স্ত্রীকে পতিতালয়ে বিক্রির মামলায় স্বামীর সাত বছরের কারাদণ্ড

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৪৯

বরিশাল অফিস

স্ত্রীকে পতিতালয়ে বিক্রির মামলায় বরিশালে স্বামী ফরিদ উদ্দিন মল্লিককে সাত বছর কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বরিশালের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মঞ্জুরুল হোসেন বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামির অনুপস্থিতে এই রায় ঘোষণা করেন। গত ২২ মার্চ বরিশালে মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরুর পর ঐ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় এটি।

রায়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঐ গৃহবধূকে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত ফরিদ উদ্দিনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণের ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের মধ্যেমে এই অর্থ পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুবা পিডিআর আইনে আসামির সম্পদ বিক্রি করে ক্ষতিগ্রস্ত ঐ নারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ফরিদ উদ্দিন মল্লিক জেলার উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের তারাবাড়ি এলাকার মৃত জয়নাল মল্লিকের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ৬ অক্টোবর দুপুরে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় যায় ফরিদ উদ্দিন। পরদিন ফারজানাকে খুলনা নিয়ে পতিতালয়ের মিন্টু সরদারের কাছে বিক্রি করে দেয়। এর ১৫-২০ দিন পর ফরিদ উদ্দিন ফের ঐ পতিতালয়ে গিয়ে অবস্থান করতে থাকে। ফারজানার কাছ থেকে নিয়মিত অর্থও আদায় করত ফরিদ। কিছুদিন পর মিন্টু সরদার ফারজানাকে ঐ পতিতালয়ের আরেক সরদারনী হোসনেয়ারার কাছে বিক্রি করে দেয়। প্রায় দুই মাস পর ১০ ডিসেম্বর খবর পেয়ে ফারজানার বাবা ও শ্বশুর খুলনার ফুলতলা থানা পুলিশের সহায়তায় ঐ পতিতালয়ে গিয়ে ফারজানাকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ সরদার মিন্টু ও সরদারনী হোসনেয়ারাকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় ১২ ডিসেম্বর ফারজানার বাবা আবুল কারাম বাদী হয়ে অভিযুক্ত স্বামী ফরিদ উদ্দিন এবং পতিতালয়ের দুই সরদার ও সরদারনী মিন্টু এবং হোসনেয়ারাকে আসামি করে বাবুগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পতিতালয়ের দুই সরদার ও সরদারনীকে অব্যাহতি দিয়ে স্বামী ফরিদ উদ্দিনকে একমাত্র অভিযুক্ত করে ২০০৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে এই মামলার অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।