ঁজহির উদ্দিন মাসুম
লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আখতার মামুন (উপসচিব) বলেন, লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভলপমেন্ট প্রকল্পটি ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হচ্ছে আইটি/আইসিটি খাতের মাধ্যমে বিশ্ব বাজারে প্রবেশের জন্য আউটসোর্সিং যোগ্যতা/সামর্থ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করা এবং বিশ্ব বাজারে নতুন চাকুরির সুযোগ সৃষ্টিসহ দেশের সর্বস্তরে আইটি সচেতনতা বৃদ্ধি করা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তরুণরা চাকরি করবে না, তারা চাকরি দিবে। তারা নিজেরাই নিজেদের বস তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী করার জন্য লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
করোনা মহামারীকালীন সময়ে বিশ্বের সব কিছু যখন স্থবির হয়ে পরে তখনও উক্ত প্রকল্পটি ঘরে বসে থাকা শিক্ষিত যুবক যুবতীদের অনলাইন ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে প্রফেশনাল আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান করে চলেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সার্বক্ষণিক পরামর্শক্রমে, আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহম্দ পলক-এর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবং আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ-এর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে করোনাকালীন সময়ে গত ১৭ মে অনলাইন ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে অনলাইন প্রশিক্ষণের কার্যক্রম শুরু হয়। দেশের ৬৪ জেলায় ১৫টি লটে ২০০০টি ব্যাচে ৩টি কোর্সে (গ্রাফিক ডিজাইন , ডিজিটাল মার্কেটিং ও ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট ) ৫০দিন ব্যাপী (২০০) ঘন্টা) ৪০ হাজার ফ্রীলান্সার তৈরির লক্ষ্য অনলাইন প্রফেশনাল আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ পরিচালিত হচ্ছে।
উক্ত প্রশিক্ষণ প্রতিদিন ফেইসবুক লাইভ এবং ইউটিউব চ্যানেল-এর মাধ্যমে নিয়মিত সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রকল্প কার্যালয় থেকে অনলাইন মনিটরিং ড্যাস বোর্ডে মাধ্যমে উক্ত অনলাইন প্রশিক্ষণ নিয়মিত মনিটর নিয়ন্ত্রন করা হচ্ছে। প্রকল্পের নিজস্ব ওয়েব সাইটে প্রশিক্ষণের লার্নিং ও আর্নিং সংক্রান্ত সকল তথ্যাবলি নিয়মিত আপলোড ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত ১৫০০টি ব্যাচে ত্রিশ হাজার প্রশিক্ষণার্থীর অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১২,০০০ হাজার প্রশিক্ষণার্থী এখন পর্যন্ত ঘরে বসে অনলাইন মার্কেট প্লেস থেকে প্রায় ১২ লাখ ২৮ হাজার ইউএস ডলার উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
অবশিষ্ট ১৮,০০০ প্রশিক্ষণার্থীর নিয়মিত মেন্টরিং কার্যক্রম চলমান আছে। মেন্টরিং কার্যক্রম সম্পন্ন হলে তারা অনলাইন মার্কেট প্লেস থেকে ফরেন রেমিটেন্স উপার্জন করতে সক্ষম হবে। উক্ত মেন্টরিং কার্যক্রম মনিটরিং ড্যাস বোর্ডে মাধ্যমে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগামী মার্চ, ২০২১ মাসের মধ্যে অনলাইনে ৪০,০০০ প্রশিক্ষণার্থীর ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হবে।
উক্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হলে নতুন ফ্রীলান্সারদের দ্বারা প্রায় ১০ মিলিয়ন ইউএস ডলার বাংলাদেশ অর্জন করবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাত থেকে যে ৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার আয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তা অর্জনে এই প্রশিক্ষণার্থীরা উল্লেখযোগ্য বহুমিক রাখতে সক্ষম হবে।
মো: আখতার মামুন
প্রকল্প পরিচালক, লার্নিং এন্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প
