ফয়জুল-মামুনুলরা বলাৎকারের নীরব সমর্থনদাতা: মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:০৯

দেশে ক্রমাগত বলাৎকারের ঘটনা ঘটলেও বলাৎকার নিয়ে এখনো পর্যন্ত দেশের আলেমরা প্রতিবাদ না করে নীরব সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের একাংশ। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের এই অংশ বলছে, গত এক মাসে দেশে প্রায় ৩৫ জন মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করা হলেও আলেমদের কোন মন্তব্য বা প্রতিবাদ আমাদের চোখে পড়েনি।

নিজেদের ইসলামিক দল হিসেবে দাবি করলেও হেফাজতে ইসলামের নেতারাও বলাৎকারের ঘটনাগুলো নিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করছে। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, মামুনুল হক গংরা বলাৎকারের নীরব সমর্থনদাতা। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের বুলবুল-মামুন অংশ। এদিন বেলা ১২টায় মহানবী (সা.) ও বঙ্গবন্ধুর অবমাননা, বলাৎকারে সর্মথনদানের অভিযোগে মামুনুল হকের গ্রেফতারসহ সাত দফা দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলন করে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার হুমকি ও ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে ফজুল করীম ও মামুনুল হক রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছেন। তাছাড়া এর মাধ্যমে তারা দেশের সংবিধানেরও বিরোধিতা করেছেন। তাই আমরা তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা অন্যদের ব্যাপারেও খোঁজ নিচ্ছি। তারাও এরকম কিছু করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননার অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করবে বলে জানায় মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আজ রবিবার ঢাকার সিএমএম কোর্টে এই মামলা করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। 

মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মহানবী (সা.) এর অবমাননার অভিযোগ এনে আল মামুন বলেন, সম্প্রতি একটি ইসলামী ধর্মসভায় মামুনুল হক মহানবী (সা:) কিভাবে ঠোঁট নাড়াতেন এটা তিনি নাকি দেখেছেন এবং হুবহু বলে দিতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন। ইসলামের দৃষ্টিতে মহানবী (সা:) এর কোন অবয়ব দেখানো সম্পূর্ণ হারাম। ধর্ম ব্যবসায়ী মামুনুল হক প্রকাশ্য দিবালোকে মহানবী (সা.) এর অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে নবীজীকে অবমাননা করেছেন। 

সংগঠনটির সাত দফা দাবির মধ্যে আছে, বলাৎকার ও এর সমর্থনদাতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা, প্রতিটি উপজেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করা, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানিমূলক গুজব ও অপপ্রচারকারীদের আইনের আওতায় আনা, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন বন্ধে মনিটরিং সেল গঠন করে নজরদারি বাড়ানো, মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা প্রভৃতি।

এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ আগামী বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে কোমলমতি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের বলাৎকারের ঘটনাগুলোর তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও শুক্রবার এসব ঘটনার প্রতিবাদে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চালাবে বলে সম্মেলনে জানানো হয়। সারাদেশের সকল মসজিদে এ লিফলেট বিতরণের কার্যক্রম চালাবেন বলে জানান তারা। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে এ বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে। 

ইত্তেফাক/এসআই