ইত্তেফাক রিপোর্ট
গণতন্ত্রের মানসপুত্র, উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল শনিবার তার কবরে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি-জেপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে। দলগুলোর নেতারা শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কবর জিয়ারত এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাতের মাধ্যমে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
সকাল ৯টায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিন নেতার মাজারে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও জিয়ারত শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সারা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চেয়েছেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রয়াণ দিবসে আমাদের প্রতিজ্ঞা হবে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা প্রয়োজন। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিকলীগ ও কৃষকলীগসহ আওয়ামী লীগের সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও পৃথকভাবে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
যুবলীগ :হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তার মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে যুবলীগ। যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশের নেতৃত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. হাবিবুর রহমান পবন, মো. নবী নেওয়াজ, মোয়াজ্জেম হোসেন, তাজউদ্দিন আহমেদ, জসিম মাতুব্বর প্রমুখ। তারা সেখানে দোয়া, মোনাজাত ও ফাতেহা পাঠ করেন।
জাতীয় পার্টি-জেপি :জাতীয় পার্টি-জেপির পক্ষ থেকে দলের নেতা-কর্মীরা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কবরে ফুল দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া তারা মাজার জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠের মাধ্যমে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাদেক সিদ্দিকী, এজাজ আহমেদ মুক্তা ও রুহুল আমিন, ভাইস চেয়ারম্যান মীর হারুন অর রশিদ, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক এম সালাহ উদ্দিন আহমেদ, প্রচার সম্পাদক হুমায়ুন কবির তালুকদার রাজু, ক্রীড়া সম্পাদক আলী আবদুল্লাহ টিংকু, আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ, যুগ্মপ্রচার সম্পাদক মঞ্জুর হাবিব মঞ্জু। এ ছাড়াও জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম রুবেল, সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন নান্নু ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক এস এম বিপ্লব প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া গতকাল হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজার প্রাঙ্গণে ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী স্মৃতি পরিষদ’ আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেপির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক সিদ্দিকী বলেছেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাধারণ মেহনতি মানুষের অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য নিজেকে উত্সর্গ করে গেছেন। স্মৃতি সংসদের সভাপতি ইতিহাসবিদ সিরাজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ জলিল, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, বাংলাদেশ জাসদ নেতা হুমায়ূন কবির, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ সাধারণ সম্পাদক আকবর হোসেন পাঠান, বরিশাল বিভাগ সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আ স ম মোস্তফা কামাল প্রমুখ।
সিরাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন স্তরে, বিভিন্ন সময়ে মানবসমাজ আর রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন প্রতিভার জন্ম হয়। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আবির্ভাবও এমন একটি ঐতিহাসিক পটভূমিতে সমাজ আর রাষ্ট্রের প্রয়োজনে। এম এ জলিল বলেন, বিপন্ন গণতন্ত্রের সুস্থ ও সুষ্ঠু জাগরণ আর প্রগতির গতি নিরবচ্ছিন্ন করার মানুষ ছিলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া বলেন, আমাদের শেরে বাংলা, মওলানা ভাসানী, শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো মানুষের আদর্শ লালন করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
সোহরাওয়ার্দীর দূরদর্শিতার ফলেই যুক্তফ্রন্টের অবিস্মরণীয় বিজয় :খন্দকার মাসুদ
শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ‘নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান খন্দকার মাসুদ-উজ-জামান বলেছেন, তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ফলেই ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের অবিস্মরণীয় বিজয় সম্ভব হয়েছিল।
