শীতকাল হচ্ছে ইবাদতের বসন্তকাল

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২৮

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অপার কৃপায় শীতকালে জমিনে প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি জন্মায়।  এসব শস্যাদি  আল্লাহ তায়ালার অনন্য নেয়ামত। এ প্রসঙ্গে  আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, মানুষ তার খাদ্যের প্রতি লক্ষ্য করুক। আমি তো অঝর ধারায় বৃষ্টি বর্ষণ করেছি। অতঃপর মাটিকে বিদীর্ণ করেছি। আর তাতে উত্পন্ন করেছি শস্যাদি, আঙুর, শাক-সবজি, জলপাই, খেজুর, বহু বৃক্ষ বিশিষ্ট বাগান, ফল-ফলাদি ও ঘাস। এসব তোমাদের ও তোমাদের পালিত পশুকুলের জীবনধারণের জন্য। (সূরা আবাছা :আয়াত ২৪-৩২)

শীতকালে এখন গ্রামে গ্রামে আয়োজন করা হচ্ছে ওয়াজ মাহফিলের। এতে করে মুসলমানগণ তাদের ঈমান-আকিদা ও আমলের সংশোধন করার পাশাপাশি পরকালের পাথেয় সংগ্রহের সহজ পন্থাও অবলম্বন করতে পারছেন। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে এসব ওয়াজ মাহফিল যেন আড়ম্বর পূর্ণ ও বিনোদনের উদ্দেশ্য না হয়। এই মাহফিলগুলো যেন হয় আল্লাহর সন্তুষ্টি ও হিদায়াতের মাইলফলক। (দ্রষ্টব্য:সূরায়ে তাওবা-১২২, ইবনে মাজাহ, হাদিস নং- ২২৪, বাইহাকী হাদিস নং ১৬৬৬)। শীত মানেই দীর্ঘ রজনী আর ছোট্ট  দিবাকর। যারা ঘুমকাতুরে তাদের জন্য শীতের এ দীর্ঘ রাত যেন অমৃতের পেয়ালা। তাই তারা লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে উষ্ণ বিছানায় গা এলিয়ে হারিয়ে যায় স্বপ্নের রাজ্যে। অথচ হাদিসে এসেছে শীতকাল হচ্ছে মুমিনের জন্য ইবাদতের বসন্তকাল। হযরত আমের ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত তিনি নবী সা. থেকে বর্ণনা করেছেন। নবীজী বলেছেন, ‘শীতল গনিমত হচ্ছে শীতকালে রোজা রাখা।’ (তিরমিজি :৭৯৫) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় খাত্তাবী (রহ) বলেন, ‘শীতল গনিমত মানে সহজলভ্য গনিমত। যেহেতু শীতের রোজায় রোজাদার গরমের তৃষ্ণা অনুভব করে না।’ এ প্রসঙ্গে ইমাম গাজ্জালি (রহ) বলেন, ‘আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের জন্য শীতকালের চেয়ে প্রিয় কোনো সময় আছে কিনা আমার জানা নেই। কারণ শীতের দিনগুলো ছোট থাকে আর রাতগুলো বড় হয়। তাই দিনে রোজা রাখা আর রাতে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকা সহজ হয়। এছাড়াও এই শীতকালে আমরা আরো অনেক রকমের নেক আমল করতে পারি। এই যেমন অসহায় দরিদ্রদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ানো। এই যে আমাদের চারপাশে অসংখ্য মানুষ আছে যারা ঠিকমতো দু’বেলা খেতে পারে না, এই হাড়কাঁপানো শীতেও যাদের একটি গরম কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই, আমরা ইচ্ছে করলেই এই অসহায় মানুষদের কষ্ট লাঘব করতে পারি। এ ব্যাপারে মহানবী (স) বলেছেন, ‘যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করেন না।’ (সহীহ মুসলিম-২৩১৯)

তাই আসুন! শীতের এই সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাই। গভীর রজনীতে ব্যস্ততম মানুষগুলো যখন নিঃশব্দে তলিয়ে যায় ঘুমের অরণ্যে, যখন ডেকে ওঠে না কোনো নিশাচর, নড়ে না বৃক্ষ-পল্লব, তখন জেগে ওঠি প্রভুর সান্নিধ্যে। এই অস্থায়ী সুখকে তুচ্ছজ্ঞান করে পরকালীন চিরস্থায়ী সুখের প্রত্যাশায় রাব্বে কারীমের অদৃশ্য পায়ের সামনে দাঁড়াই অবনত মস্তকে।

lলেখক : ইমাম ও খতিব, কসবা জামে মসজিদ,

কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া