বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাও এগিয়ে এসেছে। গেল বছর ও তার আগের বছরও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ে রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সবমিলিয়ে বৈদেশিক সহায়তার পাইপলাইনের আকার ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর বড় অংশ গেল দুই বছরে যুক্ত হয়েছে। আগামী ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে এই অর্থছাড়ের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে বলে আশা করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত কর্মশালায় এমনটি জানানো হয়।
ইআরডির অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইআরডির সচিব মনোয়ার আহমেদ। বিভিন্ন সেশনে বক্তব্য দেন, ইআরডির যুগ্ম সচিব ড. রেজাউল বাশার সিদ্দিক ও রুহুল আমিন, উপ-প্রধান এম. এ আক্তার। কর্মশালায় ইআরডির কার্যক্রম, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের চিত্র, বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহার ও প্রতিশ্রুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
ইআরডির সচিব মনোয়ার আহমেদ বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় বৈদেশিক ঋণের সুদ হার বাড়বে। কিন্তু আমাদের সামনে আরো নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল, দক্ষিণ-দক্ষিণ সহায়তাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্লাটফর্মে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তৈরি হবে। ইআরডি সেই সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, গেল দশ বছরে বাংলাদেশে স্থূল জাতীয় আয়ের (জিএনআই) হিসাবে দুই শতাংশ হারে বৈদেশিক সহায়তা এসেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ১৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৮ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছে যা রেকর্ড। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পে বড় আকারের অর্থায়ন চুক্তি ( প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার) ছাড়াও বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে বৈদেশিক সংস্থাগুলো। তাছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে রেকর্ড ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার অর্থছাড় হয়েছে। পাইপলাইন বৃদ্ধি পেলেও অর্থছাড়ের মাধ্যমে আগামী ৭-৮ বছরে দেশে এই অর্থ উন্নয়ন প্রকল্পে বাস্তবায়ন হবে। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, জিডিপির তুলনায় বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ এখনও ঝুঁকি সীমার দূরে রয়েছে। নতুন নতুন ঋণ গ্রহণ করলেও সেটি দেশের সক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে বলে উল্লেখ করেন অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার হেসেন।
