বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৫৯

সমস্যাটি কমবেশি সারা বাংলাদেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। এসব গ্যাংয়ের সদস্য সব কিশোর বয়সী কিংবা কিশোর উত্তীর্ণ তরুণ। সামান্য কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুনখারাবির মতো অপরাধে তারা জড়িয়ে পড়ে। নিজেদের সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে কিশোর গ্যাংয়ের দিকে ঝুঁকছে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। আর সন্ত্রাসীদের কারণে কিশোর গ্যাং বেপরোয়া। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সঙ্গে জেলা-উপজেলাগুলোতেও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে এরা। চেষ্টা করেও দমন করা যাচ্ছে না এই কিশোর অপরাধ। পাড়া-মহল্লার ছিঁচকে সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে ধনী পরিবারের বখে যাওয়া সন্তানদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে কিশোর গ্যাং। রাজধানী ঢাকাতেই অন্তত ৪০-৫০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। বড় ধরনের অপরাধের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় নারীদের উত্ত্যক্ত করা, কটূক্তি ছুড়ে দেওয়া, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন, ছিনতাই তাদের প্রতিদিনের কার্যক্রম। আধিপত্য বিস্তারে কিশোর গ্যাংগুলো গ্রুপ তৈরি করে অন্য এলাকার গ্রুপের সঙ্গে মারামারি করে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়সে কিশোর হওয়ার সুবাধে শাস্তির আওতায় আনতে আইনের যথেষ্ট ফাঁকফোকর থাকায় এর সুযোগ নিচ্ছে এসব গ্যাংয়ের লিডারসহ বাকি সদস্যরা। অনেক বড় বড় অপরাধ ঘটিয়েও বয়সের অজুহাতে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে জামিনে বের হওয়ার সুযোগ। জামিনে বাইরে এসে এরা আবারও জড়িয়ে পড়ছে অপরাধে। অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের বিষয়ে সচেতন হওয়া। একইসঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের আরো কঠোর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

কিশোরদের অপরাধে জড়ানোর জন্য অভিভাবকদের উদাসীনতাই দায়ী। সমাজের সকল পর্যায়ের মানুষকে কিশোরদের প্রতি সহনশীল হতে হবে। শিশু-কিশোরদের প্রতি যথাযথ নজর দিলে কিশোর অপরাধ দমন করা সম্ভব। সেসঙ্গে কিশোর গ্যাং কালচার থেকেও সমাজ রেহাই পাবে।

আহনাফ তাহমিদ

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা