গৃহকর্মীকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা

রংপুরে যুগ্ম দায়রা জজের বিরুদ্ধে শিশু আইনে মামলা

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪৪

রংপুর নগরীর আদর্শপাড়া এলাকায় আঁখি মনি (১২) নামে এক গৃহপরিচারিকাকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেওয়াসহ নির্যাতনের অভিযোগে মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একজন যুগ্ম দায়রা জজসহ চার জনের বিরুদ্ধে শিশু আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন রেজাউল বারীর বাসার নির্যাতিতা গৃহপরিচারিকা আঁখি মনির মা শিরিনা খাতুন। মামলার আসামিরা হলেন, যুগ্ম দায়রা জজ রেজাউল বারী রিপন (বর্তমানে নওগাঁ জেলায় কর্মরত), তার দন্ত চিকিত্সক স্ত্রী কানিজ আফি কান্তা, শাশুড়ি খালেদা বেগম এবং শ্যালিকা শাপলা বেগম। শিরিনা খাতুন বাদী হয়ে প্রথমে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে কিশোরগঞ্জ থানা থেকে প্রেরিত এস আই মাসুদ রানার মাধ্যমে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় শনিবার রাতে শিশু আইনে মামলা করেন তিনি। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আবদুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওসি তদন্ত রাজিফুজ্জামান জানান, নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে আছে। 

মামলা ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতিত শিশুটির বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর গ্রামে। কিশোরগঞ্জের বগুলাগাড়ী (আদর্শপাড়া) এলাকার জনৈক ডালিম চন্দ্র রায়ের মাধ্যমে মাসিক ১ হাজার টাকা বেতনে আঁখি মনিকে গৃহকর্মী হিসেবে রংপুর শহরের আদর্শপাড়া মহল্লার দন্ত চিকিত্সক কান্তা বেগম এবং রেজাউল বারী দম্পতির বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় দুই বছর ধরে আঁখি মনি সেখানে কাজ করছিল। মামলার এজাহারে বলা হয়, ১২৫ টাকা চুরির সন্দেহে গত ২১ নভেম্বর রাত ১২টার দিকে আসামিরা আঁখি মনিকে মারধরের পর গোপনাঙ্গে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেয়। পরে খবর পেয়ে ২৮ নভেম্বর বিকালে ডালিম চন্দ্র রায়সহ আঁখি মনির মা শিরিনা খাতুন রংপুরের ওই বাসায় যান। সেখানে গেলে তারা শিরিনাকে জানান, তার মেয়ে টাকা চুরি করেছে। তাই তারা তাকে আর বাসায় রাখবে না। তারপর একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে আঁখি মনিকে মায়ের হাতে তুলে দেয় তারা। এরপর মেয়েকে নিয়ে গ্রামে ফিরে যান শিরিনা। সেখানে মেয়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে গ্রামবাসীকে বিস্তারিত জানান শিরিনা। গ্রামের বাসিন্দা নুরউদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা জাতীয় জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে বিস্তারিত জানাই। এরপর পুলিশ এসে ৩০ নভেম্বর শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয় এবং পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) শহিদুল্লাহ কাওছার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মামুনুর রশিদ গতকাল রাতে জানান, রংপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ কার্যবিধিতে মেয়েটির জবানবন্দি রেকর্ড করা  হচ্ছে।