কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য চত্বরে দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণ ঘটনাটির ক্লু এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ভাস্কর্য চত্বরের মাত্র ২৫/৩০ গজ দূরত্বে দায়িত্বরত পুলিশসহ জেলার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ফিল্মি কায়দায় গুলিবর্ষণ ও কালো পতাকা টাংগিয়ে দুর্বৃত্তরা কিভাবে পলায়ন করলো তা নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই।
জেলা পুলিশের তথ্য মতে, ৪ ডিসেম্বর রাত ২টার দিকে ভাস্কর্য ভাঙচুরের ২৩ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ৬ ডিসেম্বর শনিবার রাতে চারজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলে- শহরের জুগিয়া পশ্চিমপাড়া ইবনে মাসউদ (র.) মাদ্রাসার শিক্ষক মো. আল আমিন (২৭) ও মো. ইউসুফ আলী (২৬)। একই মাদ্রাসার ছাত্র মো. আবু বক্কর ওরফে মিঠুন (১৯) ও মো. সবুজ ইসলাম নাহিদ।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার নেপথ্যের কারণসহ ক্লু উদ্ধার করতেও সক্ষম হয় পুলিশ। তবে ৫ ডিসেম্বর শনিবার রাতে কর্তব্যরত পুলিশের সামনে নম্বর প্লেটবিহীন মাইক্রোবাস হাঁকিয়ে ভাস্কর্য চত্বরে অকস্মাৎ দুর্বৃত্তের আগমন, ফাঁকা গুলি বর্ষণ ও ভাস্কর্য বেদী সংলগ্ন বাঁশের সঙ্গে কালো পতাকা টাংগিয়ে নির্বিঘ্নে পলায়নের বিষয়টি শহরবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে।
ভাস্কর্যের সন্নিকটেই অর্থাৎ ৬/৭শ’ দুরত্বে শহরের প্রবেশমুখ মজমপুর গেট। আর এ গেটেই ট্রাফিক পুলিশের অফিস। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশের অদূরেই পুলিশ লাইন, এসপির কার্যালয় এবং র্যাব ক্যাম্প।
ঘটনাটি সম্পর্কে কেউ বলছেন, ভাস্কর্য চত্বরে কর্তব্যরত পুলিশের নির্লিপ্ততা আবার কেউ কেউ বলছেন এটি রহস্যঘেরা। এ ঘটনায় কেউ এখনো থানায় কোন অভিযোগ দেয়নি। ফলে ঘটনাটি নিয়ে একরকম ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে গুলি বর্ষণ ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পরও পুলিশ জড়িত কাউকে গ্রেফতার কিংবা কুল-কিনারা করতে পারেনি। অনুসন্ধান চলছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান।
এদিকে ৬ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংকালে খুলনা বিভাগীয় ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিনের উপস্থিতিতে বিষয়টি প্রশ্নত্তোর পর্বে উঠে আসে। এসময় ডিআইজি বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার জানান, তদন্ত অব্যাহত আছে। আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে সবকিছু বেরিয়ে আসবে।
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত সত্যতা স্বীকার করে জানান, ভাস্কর্য চত্বরে গুলিবর্ষণ ও কালো পতাকা টাঙ্গানোর ঘটনায় কোন মামলা হয়নি। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া ওই ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি নেই বলেও জানান এসপি।
ইত্তেফাক/জেডএইচ

