জয়পুরহাট জেলা হাসপাতাল

৪৬ চিকিত্সক পদের ১৭টিই শূন্য

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:০৪

জয়পুরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিত্সকসহ অন্যান্য জনবলের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম। কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না হাসপাতালে আগত জেলার রোগীরা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে ১৯৯৮ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। অবকাঠামোগত সুবিধা থাকায় একই জনবল দিয়ে ২০০৬ সালে ১৫০ শয্যার হাসপাতাল চালুর উদ্বোধন করা হয়। হাসপাতালে চিকিত্সকের ৪৬টি পদের  মধ্যে ১৭টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে সিনিয়র কনসালটেন্ট অর্থো, সার্জারি ও গাইনি শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে, জুনিয়র কনসালটেন্ট স্কিন অ্যান্ড ভিডি, চক্ষু, এনেসথেশিয়া, কার্ডিওলজি, ইএনটিসহ আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার দুটি,  ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার চারটি ও জুনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসারের দুটি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও ৩য় শ্রেণির ছয়টি পদসহ ৪র্থ শ্রেণির ১৬ পদ শূন্য রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে জেলা আধুনিক হাসপাতালে বহিঃ বিভাগে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৬০ জন, জরুরি বিভাগে ২৭ হাজার ২৩১ জন, ভর্তি থাকা ২৩ হাজার ৬৪১ জন রোগীর চিকিত্সাসেবা প্রদান করা হয়েছে। জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নিলুফা জহুর লিলি বলেন, চিকিত্সকসহ অন্যান্য জনবল সংকটের কারণে চিকিত্সা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় অনেক সময় রোগীদের রেফার্ড করা হলেও দরিদ্র রোগীরা অন্যত্র যেতে পারেন না। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির অন্যতম সদস্য রাজা চৌধুরী জানান, সরকারের সবাইর জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ কর্মসূচির আওতায় জেলা আধুনিক হাসপাতালের শূন্য পদে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া জরুরি। জেলা আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সরদার রাশেদ মোবারক জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকসহ দক্ষ জনবলের চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দক্ষ জনবল পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো উপকরণগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আরো উন্নত চিকিত্সাসেবা প্রদান করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।