বাল্যবিয়ে মেনে না নেওয়ায় কালকিনিতে শুকতারা আক্তার (১৬) নামের এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রথমে থানা পুলিশ বাধা প্রদান করে। পরে শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে সহপাঠীর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। এছাড়া বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনে বেশ কিছু সময় অবস্থান নেয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাহেবরামপুর এলাকার সাহেবরামপুর গ্রামের সালাম আকনের বড় ছেলে ইতালী প্রবাসী রোমনের (৩০) সঙ্গে পাঙ্গাশিয়া গ্রামের মোফাজ্জেল হাওলাদারের মেয়ে শুকতারা আক্তারকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে ঠিক করেন পরিবারের লোকজন। বাল্যবিয়ের খবর জানতে পেরে শুকতারা প্রত্যাখ্যান করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রোমন আকনের ছোট ভাই শামন আকন তার লোকজন নিয়ে গত মঙ্গলবার সকালে ওই শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার সময় কুপিয়ে জখম করে ফেলে রাখে। পরে শুকতারাকে গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে শুকতারার ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে তার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থানার সামনের রাস্তায় মানবন্ধনের আয়োজন করে। পরে কালকিনি থানা পুলিশ কর্মসূচিতে বাধা দেয়। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস ঘেরাও করে।
কালকিনি থানার ওসি মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, আমরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দায়িত্ব পালন করেছি। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, দোষীদেরকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে।
