বাংলাদেশের নারীরা পারিবারিকভাবে বেশি সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। সহিংসতার শিকার প্রায় ৯৭ শতাংশ নারীর অভিযোগ, আদালতে এ সংক্রান্ত মামলা শুনানির পর্যায়ে যায় না বা গেলেও বাতিল হয়ে যায়। অন্যদিকে ২০০৯ সালে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি যুগান্তকারী নির্দেশনা দেয়। অথচ ঐ নির্দেশনা মানছে না অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান। ফলে ঘরে-বাইরে সর্বত্রই নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন হুমকিতে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে দুটি পৃথক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরে একশনএইড বাংলাদেশ। ‘সর্বক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা চাই’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের তাগিদ দেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক,প্যানেল আলোচক ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন,বাংলা ট্রিবিউনের হেড অব নিউজ হারুন উর রশিদ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিয়া হক, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল করিম, ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারের ডেপুটি কমিশনার ফরিদা ইয়াসমিন। আরো বক্তব্য রাখেন মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, একশন এইড বাংলাদেশ-এর বোর্ড মেম্বার ড. খলিলুর রহমান এবং ডেপুটি ডিরেক্টর ফারিয়া চৌধুরী। গবেষণা প্রতিবেদন দুটি উপস্থাপন করেন একশন এইড বাংলাদেশ-এর ম্যানেজার কাশফিয়া ফিরোজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমিন।
‘বাংলাদেশে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার উপর দৃষ্টিপাত ঃ প্রবণতা এবং সমাধান’ শীর্ষক গবেষণায় আরও দেখা যায়, নারীর প্রতি সহিংসতার দুই-তৃতীয়াংশই পারিবারিক সহিংসতা। সহিংসতায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে মাত্র ৩ দশমিক১ শতাংশ নিজেদের পক্ষে বিচার পায়। অপরাধীকে খালাশ দেওয়ার সম্ভাবনা ৩২ শতাংশ। শুধু ১০ দশমিক ৭ শতাংশ মামলা থাকে পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত, যেখানে বেশিরভাগ অভিযোগ পারিবারিক সহিংসতা সম্পর্কিত। দেশের ২০টি জেলার ২৮০০টি সহিংসতার ঘটনার উপর এই গবেষণা করা হয়।
‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ: সুপ্রিমকোর্টের ২০০৯ সালের নির্দেশনার প্রয়োগ ও কার্যকারিতা’ শীর্ষক গবেষণা মতে, ৮৭ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালের সুপ্রিমকোর্টের দিক-নির্দেশনা সম্পর্কে একেবারেই অবগত নয়, কর্মক্ষেত্রে যার হার ৬৪ দশমিক৫ শতাংশ। ১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী নির্দেশনা সম্পর্কে জানলেও তাদের এ বিষয়ে কোন পরিষ্কার ধারণা নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে রয়েছে কর্তৃপক্ষের অসচেতনতা ও নির্দেশ না মানার ঝোঁক।
বক্তারা মনে করেন,বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা, বিচার প্রক্রিয়ায় হয়রানি, প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, সুশাসনের অভাব এবং মামলা পরিচালনায় অতিরিক্ত খরচসহ নানাবিধ হয়রানি নারীদের নিরুত্সাহিত করে মামলা বা অভিযোগ করতে। তারা বলেন,হাইকোর্টের নির্দেশনাকে এখন আইনে ্রূপ দিতে হবে। এবং এ সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি করতে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিকে তৃণমূলে সচেতনতা বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকারকে গুরুত্বারোপ সাপেক্ষে নির্দেশ দেওয়া জরুরি। সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
