বহুদিন ধরেই ফেসবুকে প্রতারণা হয়ে আসছে। কারো আইডি হ্যাক করে স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের ঘটনা নতুন নয়। তাই বলে প্রধানমন্ত্রীর নামে একাউন্ট খুলে প্রতারণা! এবার সে ঘটনাও ঘটেছে। এমন ৫ জন সাইবার অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এই চক্র প্রধানমন্ত্রীর নামে খোলা একাউন্টে নিজেদের নম্বর দিয়ে দিত। কেউ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ওই নম্বরে ফোন দিলে তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে খবর পৌঁছার নামে ওই সব ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিত। এমনকি সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি বানানোর কথা বলেও অনেকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছে এই চক্র। শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নন, তার বোন শেখ রেহানা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ অনেকের নামই তারা ব্যবহার করত।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সবাইকে যেমন একসুতায় বেঁধেছে, বুঝতে না পারলে এখানে ভয়াবহ প্রতারণায় পড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা যেমন এখানে ঘটে, কারো আইডি হ্যাক করে প্রতারণার কথা সহসাই শোনা যায়। বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সচেতনভাবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারের কথা বলেছেন। বিশেষ করে প্রতারণার ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শও তাদের।
সর্বশেষ গত বুধবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মগবাজার, ডেমরা, কেরানীগঞ্জ ও সাভার এলাকা থেকে র্যাব-২ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন— ওমর ফারুক (৩০), সাব্বির হোসেন (২৪), মনির হোসেন (২৯), আল আমিন (২৭) ও আমিনুল ইসলাম (২৫)। গতকাল বৃহস্পতিবার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।
মুফতি মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছিল গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা। তারা ভুয়া পেজে প্রধানমন্ত্রীর নামে নিজেদের মোবাইল নম্বর দিয়ে রাখত। অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে ওই নম্বরে ফোন দিয়ে প্রতারণার শিকার হতেন। এই প্রতারকরা সমপ্রতি সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা প্রার্থীদের কাছে ফোন দিয়ে তাদের মনোনয়ন নিশ্চিতের বিষয়ে প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রেফতার হওয়া ওমর ফারুক প্রধানমন্ত্রীর নামে ছয়টি, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে একটি এবং বিভিন্ন জাতীয় নেতাদের নামে ৩৬টি পেইজ চালিয়ে আসছিল। কেউ ফোন করলে ফারুক বলত, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে তারা এই পেইজ পরিচালনা করছে। সারাদেশে কে কী করছে সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো তাদের কাজ। ফোনে কিছুক্ষণ কথা বলার পর ইনবক্সে যোগাযোগকারী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক সুবিধা চাইত ফারুক। গ্রেফতার হওয়া আরেকজন সাব্বির হোসেন ‘শেখ হাসিনার পরামর্শ’ ও ‘সায়মা ওয়াজেদ পুতুল’ নাম দিয়ে দু’টি পেইজ থেকে নিরাপদ সড়ক চাই ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় উসকানিমূলক ভিডিও পোস্ট করে। যে কোনো নতুন ইস্যু সামনে আসলেই সাব্বির তা সরকারবিরোধী অপপ্রচারে রূপান্তর করে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল।
গ্রেফতার হওয়া আল আমিন সাইবার অপরাধে সম্পৃক্ত একটি পেইজের অ্যাডমিন। সে প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় নেতাদের ছবি বিকৃত আকারে প্রকাশ করত। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সহযোগী সংগঠন সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীর একজন সদস্য আমিনুল ইসলাম। সে ফেসবুকে চারটি অ্যাকাউন্ট ও তিনটি পেইজ চালানোর পাশাপাশি ইউটিউবে বিভিন্ন বিকৃত তথ্য প্রচার করে আসছিল। মনির হোসেন তার ফেসবুক আইডি ও পেইজ থেকে রাজনৈতিক অপপ্রচার, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করে দেশে অস্থিরতা তৈরির পাঁয়তারা করছিল। ওমর ফারুকের বাড়ি মাগুরার মোহাম্মদপুরের আকসারচরে, সাব্বিরের বাড়ি বরিশাল সদরের কোতোয়ালি থানা এলাকায়, আমিনুলের বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়ায়, আল আমিনের বাড়ি রাজধানীর ডেমরায় এবং মনিরের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জে। তবে তারা প্রত্যেকে ঢাকায় বসবাস করে আসছিল।
