শীত মৌসুমের বেশ আকর্ষণীয় ও সুস্বাদু একটি সবজি। সাধারণত ফুলকপির ফুল অর্থাত্ সাদা অংশটুকুই খাওয়া হয় এবং চারপাশে থাকা ডাঁটা এবং পাতা ফেলে দেওয়া হয়। তবে এই ডাঁটা এবং পাতা দিয়ে স্যুপও রান্না করা যায়। ফুলকপি পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি এবং সব উপাদানই সুষম পরিমাণে আছে। এতে রয়েছে ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’, ‘কে’, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও জিংক। ফুলকপির কচি পাতায় প্রায় সব খাবারের চেয়ে অনেক বেশি আয়রন আছে এবং খাদ্যশক্তি ও ক্যালসিয়াম প্রায় সব শাকসবজির চেয়ে অনেক বেশি। শুধু পুষ্টিতেই নয়, ভেষজগুণেও ফুলকপির রয়েছে অনেক অবদান। ফুলকপি রান্না বা কাঁচা যে কোনোভাবেই খাওয়া যায়।
ফুলকপিতে সালফারের যৌগ সালফোরাফেন থাকে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষ ধ্বংস করতে পারে এবং টিউমারের বৃদ্ধিকে বাধা দেয়। ফুলকপির সঙ্গে হলুদ যোগ করে গ্রহণ করলে প্রোস্টেট ক্যান্সার নিরাময় ও প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এছাড়া পাকস্থলী, স্তন ও ডিম্বাশয় ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়ক। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, সপ্তাহে প্রায় দুই পাউন্ড ফুলকপি এবং এ জাতীয় শাকসবজি খেলে মলাশয় ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অর্ধেক কমে। ফুলকপির কচি পাতা সপ্তাহে এক আউন্সের কিছু বেশি খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকিও অর্ধেক কমতে পারে। তবে যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে তাদের থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ফুলকপি খাওয়া উচিত নয়।
ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরকে বিষমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। হজমে সাহায্য করে এবং বিদ্যমান ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সুস্থ রাখতেও ভূমিকা রাখে। ফুলকপিতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখ সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ভিটামিন ‘বি’ মস্তিষ্কের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। নবজাতকের মস্তিষ্কের উন্নতি সাধনে গর্ভাবস্থায় ফুলকপি একটি ভালো খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়। ডায়াবেটিসের কারণে রক্তনালীর যে ক্ষতি হয়, ফুলকপি তা প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়া হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। ফুসফুস রক্ষায় এবং শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে সহায়তা করে। দেহের কোথাও কেটে গেলে ফুলকপির কচি পাতার রস লাগালে ভালো ফল পাওয়া যায়। পুষ্টিবিদদের মতে, স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য ফুলকপি অত্যন্ত উপকারী। তাই আমাদের খাবার তালিকায় সবজিটিকে অবশ্যই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
