নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হইয়া ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে কয়েক কোটি শিশু মারা যাইতে পারে বলিয়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করিয়াছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ। উন্নত দেশগুলিতে মারাত্মক ধরনের ফুসফুস সংক্রমণে মূলত বয়স্করাই আক্রান্ত হইলেও উন্নয়নশীল দেশগুলির চিত্র ভিন্ন শুধু নহে, অত্যন্ত উদ্বেগজনকও বটে। উইকিপিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এইসকল দেশে প্রতি বত্সর প্রায় নয় লক্ষ ২০ হাজার শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়—তন্মধ্যে অধিকাংশই দুই বত্সরের কমবয়সী। প্রধানত দক্ষিণ এশিয়া এবং সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে অবস্থিত আফ্রিকা মহাদেশে নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও সেভ দ্য চিলড্রেন তাহাদের নূতন এক গবেষণার ভিত্তিতে এই মর্মে আশঙ্কা প্রকাশ করিয়াছে যে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকিলে আগামী দশকের শেষ নাগাদ বিশ্বে ১০ কোটি ৮ লক্ষের বেশি পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হইয়া মারা যাইবে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির তালিকার উপরের দিকে রহিয়াছে আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশ। অথচ সহজেই এই রোগটিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ও সহজলভ্যতার কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় এই ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো হইলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগিবার কোনো অবকাশ নাই। নিউমোনিয়ার সহজ শিকার যেমন শিশু ও বয়স্ক মানুষ, তেমনি রোগটি বিস্তারের উর্বর ক্ষেত্র হইল অপুষ্টি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। আর এই ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থা যে এখনো নাজুক তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না। অপুষ্টি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সহিত যখন যুক্ত হয় ঠাণ্ডা ও অত্যধিক ধূলি-ধোঁয়ার দূষণ তখনই শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। লক্ষণীয় যে, শীতে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ এই নিউমোনিয়া। তবে আশাব্যঞ্জক দিক হইল, এখন সরকারি উদ্যোগেই শিশুদের নিউমোনিয়ার টিকা দেওয়া হইতেছে। টিকা ও অত্যাবশ্যক সতর্কতার মাধ্যমে রোগটি যেমন প্রতিরোধ করা সম্ভব, তেমনি ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ফুসফুসে ছড়াইয়া পড়া নিউমোনিয়া শুরুতে শনাক্ত করা গেলে চিকিত্সার মাধ্যমে তাহা নিরাময়যোগ্যও বটে। অতএব, সাবধানতার কোনো বিকল্প নাই। বিশেষ করিয়া যাহারা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছেন তাহাদের টিকা প্রদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে চালাইতে হইবে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম। বিশেষজ্ঞরা আশ্বস্ত করিয়াছেন যে, চলমান প্রতিষেধক কার্যক্রম জোরদারকরণ, সুলভ মূল্যে অ্যান্টিবায়োটিকস ও শিশুদের জন্য সুষম পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। মনে রাখা প্রয়োজন যে, প্রতি বত্সর ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া ও হামে আক্রান্ত হইয়া যত শিশু মারা যায়, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হইয়া ইহার চাইতেও অধিক শিশুর মৃত্যু ঘটে।
