আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের কর্মসূচি

পাকিস্তান-চীনে মানবাধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে মানববন্ধন

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:২৬

পাকিস্তান ও চীনের উইঘুরে চলমান মানবাধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ডকে সকলের সামনে তুলে ধরতে  বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে একাধিক এনজিও এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে এ কর্মসূচিগুলো পালন করা হয়।

পাকিস্তান ও চীনের উইঘুরে চলমান মানবাধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধন করে 'বাংলাদেশ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ফোরাম'। প্রায় একশ মানবাধিকার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে। ঢাকার পাশাপাশি একই প্রতিপাদ্য নিয়ে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কের সামনে মানববন্ধন ও পরে মোটরবাইক র‍্যালির আয়োজন করে সংগঠনটি। সেখানেও অংশ নেন শতাধিক মানবাধিকার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক।

একই দিন ঢাকার শাহবাগে আরেকটি মানববন্ধনের আয়োজন করে মা জিনাত ফাউন্ডেশন। এখানে বক্তারা পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও কাশ্মীর অংশ এবং চীনে উইঘুরে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানান। এ সকল এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘন, নির্যাতন, ও নির্বিচারে হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধনে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসহ প্রায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক।

সিলেটে 'বাংলাদেশ মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ' এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে মানববন্ধন ও পথ সভা। সংগঠনের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে আয়োজিত এই সভায় বক্তারা পাকিস্তান এবং চীনে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানো হয়। পাকিস্তান ও চীন বিরোধী শ্লোগানে শ্লোগানে এখানে অংশ নেন স্থানীয় আলেম ও মওলানারা। তারাও একই সঙ্গে পাকিস্তান এবং চীনে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

সম্প্রতি বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রাওয়ালপিন্ডিতে সনিয়া নামে খ্রিস্টান কিশোরীকে গুলি করে হত্যা করা এক মুসলিম ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। সভায় বক্তারা আরও জানান, সম্প্রতি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতা বাড়ছে এবং ধর্ষণ, অপহরণ এবং জোরপূর্বক বিয়ের বেশ কয়েকটি মামলার খবর পাওয়া গেছে। লিগাল ইভানজেলিকাল অ্যাসোসিয়েশন ডেভেলপমেন্টের প্রতিবেদন অনুসারে, কেবলমাত্র ২০১২-২০১৮ সালে পাকিস্তানে অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতন ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিল ২৮ জন খ্রিস্টান কিশোরী।

এ সময় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের কাছে  হিন্দু ও খ্রিস্টান মেয়েদের ‘উপপত্নী’ হিসাবে জোর করে ধর্মান্তরকরণ ও বিপণনের জন্য জোর করে চীনে পাঠানোর জন্য পাকিস্তান ও চীনকে জবাবদিহি করার দাবি জানান বক্তারা। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি