মন ভালো নেই?

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৫

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জনপ্রিয় একটি কবিতা আছে মন ভালো না থাকার বেদনা নিয়ে। লাইনগুলো এ রকম : মন ভালো নেই/মন ভালো নেই মন ভালো নেই মন ভালো নেই/কেউ তা বোঝে না সকলি গোপন মুখে ছায়া নেই/চোখ খোলা তবু চোখ বুজে আছি কেউ তা দেখেনি/প্রতিদিন কাটে দিন কেটে যায় আশায় আশায়/আশায় আশায় আশায় আশায়/এখন আমার ওষ্ঠে লাগে না কোনো প্রিয় স্বাদ...।

মন ভালো থাকা কিংবা মনকে ভালো রাখা তো খুব সহজ কথা নয়। মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয় মন ভালো রাখতে হলে আগে নিজেকে চিনতে হবে। হতে পারে আপনি ইন্ট্রোভার্ট, অর্থাত্ অন্তর্মুখী। কোনো ঘটনার রেশ কাটাতে আপনার বেশ কিছুক্ষণ একলা থাকতে হয়, সময় দিতে হয়। এটা খারাপ কোনো ব্যাপার নয়। জোর করে এক্ট্রোভার্ট তথা বহির্মুখী হওয়ার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। বরং নিজে কীভাবে ভালো থাকবেন, নিজে কি চান সেটা বুঝতে চেষ্টা করুন। আপনার মাথায় অনেকরকম চিন্তা আসতে পারে। হতে পারে সেটা নেগেটিভ। কিন্তু তাই বলে নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেন না। আপনি কোন ভাবনায় কীভাবে রিয়্যাক্ট করছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।

জীবনে অস্থিরতা আসে। আপ্স অ্যান্ড ডাউন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু মনে রাখবেন, শেষ পর্যন্ত লাইফ ইজ বিউটিফুল। তার জন্য একটু সময় দিতে হয়। এজন্য বলা হয়, ‘সময়’ সবচেয়ে বড় উপশমকারী ওষুধ। আপনার জীবনের লক্ষ্য স্থির করুন। একটা লক্ষ্য স্থির করা থাকলে জীবনটা উপভোগ করা অনেক সহজ হয়। লক্ষ্য অনেক সময় জীবনে অনেকটা পজিটিভ এনার্জি এনে দেয়। প্রথমেই ‘চাঁদ ছুঁয়ে ফেলব’—এমনটা ভাববেন না। ছোট ছোট লক্ষ্য নির্দিষ্ট করুন। তাতে লক্ষ্যপূরণ সহজ হয়। আর লক্ষ্যপূরণ হলে মনে শান্তিও আসে। অন্যদিকে লক্ষ্যপূরণ করাই কিন্তু শেষ কথা নয়। বরং লক্ষ্যপূরণের পথে কী কী শিখলেন সেটা ভাবুন। সবসময় হয়তো সবকিছু পাওয়া যায় না। তার জন্য ভেঙে পড়ার কিছুই নেই। অনেক অভিজ্ঞতা যে ঝুলিতে ভরলেন সেগুলোকে ভবিষ্যতে কাজে লাগান।

আপনার যদি পড়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে প্রতিদিন নিজের কথা অল্প করে হলেও লিখতে পারেন। ফেসবুকের এই সময়ে আমরা হয়তো সেখানেই কোনো কিছু লিখি। কিন্তু সেটা পাবলিক পোস্ট। বরং নিজের একান্ত কথা দিনলিপির আকারেই লিখে রাখুন। সেটা ফেসবুকের জন্য নয়। সারা দিন কীভাবে কাটালেন সেটা লিখে রাখুন। কোনো কঠিন মুহূর্ত বা ঘটনা কীভাবে কাটিয়ে উঠেছিলেন সেটা পড়ে দেখে পজিটিভ অনুভব করতে পারেন দিনলিপি পড়ে। তাই ছোট ছোট খারাপ লাগা, ভালো লাগা—সব লিখে রাখুন। তবে শুধু খারাপের ফর্দ বানাবেন না, ভালো কিছুও লিখতে হবে। এজন্য সুখানুভূতির কথা লিখুন, যাতে ভবিষ্যতে বুঝতে পারেন জীবনে শুধু খারাপ নয় ভালোটাও ঘটেছে।

আরেকটি বিষয় হলো—নিজেকে ফুল মার্কস দিন। নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন। কখনো কখনো নিজের কাছে নিজের তারিফ করতে হয়। যেমন, আপনি যদি মোটা হন তবে সেটা নিয়ে মনোকষ্টে না ভুগে এটা ভাবুন যে আপনি হয়তো মোটা কিন্তু আপনার মন ভালো। নিজেকে কখনো ছোট ভাববেন না। তাই বলে সেলফ অবসেসড হয়ে পড়বেন না। আর, লাফ আউট লাউড। সবসময় খুশি থাকার চেষ্টা করুন। সমস্যা অনেকের জীবনেই থাকে তাই নিজেকে একা ভাববেন না। অপরের সমস্যাকে নিজের সমস্যার থেকে বড় করে দেখুন। আর হাসিমুখে থাকুন। কারণ হাসলে মন ভালো থাকে এবং আপনার আশেপাশে পজিটিভ ভাব তৈরি হয়। কমেডি সিরিয়াল বা শো দেখুন। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে সময় কাটান।

সবসময় পজিটিভ থাকাটা নিজের ও অন্যের জীবনকে অনেক সহজ করে দেয়।

n লেখক : শিক্ষক, সাংবাদিক