সব দলের অংশগ্রহণেই কি নির্বাচন হতে যাচ্ছে?

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৪৬

নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে কোনো কোনো দল বা জোটের যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল বাহ্যত তা কেটে গেছে। চলছে নির্বাচনের জোর প্রস্তুতিও। অতএব, এটা কি আশা করা যায় যে সব দলের অংশগ্রহণেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে? বিষয়টিকে পাঠকরা কিভাবে দেখছেন, এই ব্যাপারে টেলিফোন ও ই-মেইলে প্রাপ্ত মতামত প্রকাশিত হলো

দেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাতে আশা করাই যায় সকল দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। দলগুলোর নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্সবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে যে দলই সরকার গঠন করুক না কেন সংসদে আলোচনা, সমালোচনা, যুক্তিতর্কের মধ্যে আইন-প্রণয়ন করা হবে। এতে দেশের মানুষ উপকৃত হবে। উন্নয়নের পথে থাকা দেশে আরো উন্নয়ন ঘটবে।

ইঞ্জিনিয়ার মো. সামসুল হক

উত্তর শাহাজাহানপুর, ঢাকা

গত কয়েকদিন ধরে মনোনয়নপত্র ক্রয়ের হিড়িক দেখে অন্তত এটাই প্রতীয়মান হয় যে, সব দলের অংশগ্রহণেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে। দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হলে এবং জনগণ ও দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হলে সব দলেরই উচিত হবে সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে নির্বাচনমুখী হওয়া।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

মেরাদিয়া, ঢাকা

নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। নির্বাচন যাতে কোনোভাবেই বিতর্কিত হতে না পারে, সে জন্য নির্বাচন কমিশনকে সচেষ্ট থাকতে হবে। বাংলাদেশ এখন নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাই দেশ ও দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর

অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। এরপর ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়, সংলাপ হয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে। সংলাপে তেমন কোনো ফলাফল না এলেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে বিএনপি বলে জানিয়েছেন তাদের নেতারা। জনগণ চায় সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক এবং সুষ্ঠু ও সংঘাতবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।

মুহাম্মদ আবু তালহা

লোক প্রশাসন বিভাগ,

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশের সকল ক্ষমতার উত্স একমাত্র জনগণ। জনগণের প্রত্যাশা, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ  নির্বাচন হোক নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য।

মাহফুজুর রহমান খান

চিনিতোলা, মেলান্দহ, জামালপুর

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে আপতত সংশয় কেটে গেছে। তবে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে এবং সরকার ও প্রশাসনের আগামী কয়েকদিনের সার্বিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ভূমিকা কী হয় তা দেখার। কারণ রাজনীতির গতিপ্রকৃতি প্রতিমুহূর্তেই পরিবর্তন হয় আমাদের দেশে। পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, কেউ যেন নির্বাচনী ময়দান ছেড়ে না দেয়।

মো. ফখরুল ইসলাম টিপু

সেনবাগ, নোয়াখালী      

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, জনসম্পৃক্ততা ধরে রাখা, কর্মী সমর্থকদের উজ্জীবিত করাসহ নানাবিধ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে। সরকার যদি রাজনৈতিক ভাষায় ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’-এর পথ প্রশস্ত করে দেয় তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে কোনো কোনো দল বা জোটের যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব আছে, তা বাহ্যত কেটে যাবে।

ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী

 চৌমুহনী, হাজীপুর, বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী

নির্বাচন কমিশনকে তাদের নির্বাচনী আচরণ বিধি মোতাবেক সকল দলের প্রতি সমানভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদারকি করার সক্ষমতা বজায় রাখতে হবে। তা না হলে জাতিকে নানা সমস্যায় ভুগতে হবে।

আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী

ইস. হাউজিং স্টেট, ২নং সেক্টর, রাজশাহী

এই নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের ফলে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে উত্সাহিত করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। নির্বাচনে ভাগ্য নির্ধারণ, নতুন প্রজন্মের চিন্তাভাবনায় প্রভাব বিস্তারসহ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণে প্রত্যাশা পূরণ করবে, এটাই সত্য।

সালমা আফরোজ

ফার্মগেইট, ঢাকা

নির্বাচন মানেই হচ্ছে জনতার কাছে যাওয়া। নির্বাচন মানেই হচ্ছে জনতার রায় পাওয়া। নির্বাচন মানেই হচ্ছে উত্সবের হাওয়া। নির্বাচন মানেই হচ্ছে জয় পরাজয় মেনে নেওয়া।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা

রাজনীতি হচ্ছে নীতির খেলা। এখানে গায়ের জোর, ভোট চুরি, টাকার খেলা, গ্রেপ্তার, ভয়-ভীতি প্রদর্শন অপ্রয়োজনীয়। এসব কাজ বেমানান, বেদনাদায়ক। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে আরো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শিশির

পিলখানা, ঢাকা

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণেই নির্বাচন হতে যাচ্ছে। অনেক দিন পর ভোটের উত্সব পাওয়া যাচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত সুখের বটে। এ ক্ষেত্রে আমাদের নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট স্বাধীন। তাই তাকে এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে যাতে এবারের নির্বাচন একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়।

চয়ন

কুতুবখালি, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

সব দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ জাতির প্রত্যাশার প্রতিফলন। সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল লক্ষ্য হলো ভোটারগণ যাতে তাদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।

খন্দকার কামরুজ্জামান

উত্তর পীরের বাগ,

মিরপুর, ঢাকা

অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ, সুখের বিষয় সব দলের অংশগ্রহণে আসন্ন জাতীয় একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনী মনোভাব, উপযোগী পরিবেশ ও গণতন্ত্র চর্চার উত্সাহ জোগাবে এমনটাই আমাদের বিশ্বাস।

মো. শহীদুল ইসলাম রয়েল

নিশিন্দারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া

দেশ এখন নির্বাচনের পথে চলেছে। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণভাবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন

হাইমচর, চরভৈরব, চাঁদপুর

বর্তমান নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি দল ছাড়াও বিরোধী দল ও জোট শরীক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবার সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।

শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হিরো

কালিহাতি, টাঙ্গাইল

সব দলের অংশগ্রহণে এবং উত্সবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে, এটাই এখন সময়ের দাবি।

মো. রবিউল হোসেন রবি

চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা, ঢাকা

অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির পাশাপাশি বিএনপিসহ অন্যান্য নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জোটগত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এতোদিন নিরানন্দে সবাই থাকলেও সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ভোটাররা আনন্দে রয়েছেন।

ফারুক আহমেদ

বাঘমারা, রাজশাহী

সব দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একে অন্যের প্রতি সহনশীল, সম্মানজনক ও রাজনীতিমূলক আচরণ করতে হবে।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

এবার সংসদ ও সরকার বহাল রেখে নির্বাচন হওয়াই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দায়িত্ব একটু বেড়ে যাবে। যেহেতু নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। তাই আমরা জনগণ এ ব্যাপারে অনেক খুশি হয়েছি।

রাজীব কুরবান

চালাকচর, মনোহরদী, নরসিংদী

বর্তমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসর জমে উঠেছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংলাপের পর সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষ চায় সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হোক এবং তা হোক সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। মানুষের চাওয়া-পাওয়া খুব সীমিত। তাদের খুব বড় কোনো ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা নেই, তারা অতি সাধারণভাবে মৌলিক চাহিদা অর্থাত্ অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বাসস্থানের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ হলেই খুশি।

ডা. মো. জামিল রহমান

গোপালপুর, টাঙ্গাইল

নির্বাচন যৌথভাবে করার লক্ষ্যে ঐক্যফ্রন্ট এবং ঐক্যজোট গঠিত হয়েছে। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পর দেখা যাচ্ছে যে আসন বণ্টন নিয়ে জোটের বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্যে না হলেও প্রচ্ছন্নভাবে একটি রেষারেষিমূলক মনোভাব বিরাজ করছে। এ অবস্থায় ঐক্যজোট এবং ঐকফ্রন্ট টিকে থাকবে কি-না সন্দেহ।

মাখরাজ খান

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে সকল দলের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে যে সংশয় ছিল তা এখন আর নেই। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তার পছন্দমতো জনপ্রতিনিধিকে বেছে নেবেন, এটাই সবার প্রত্যাশা।

সুগন্ধী আক্তার

যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

এই মুহূর্তে দেশবাসী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচনের দিন গুণছে।

মাসুম আহমেদ

শিকড় সন্ধানে, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

অত্যন্ত দুঃখজনক হচ্ছে, আমাদের দেশে নির্বাচনের আগে এবং পরে নানাধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটে থাকে, যা মোটেই প্রত্যাশার নয়।

মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম

পূর্ব শেওড়াপাড়া, ইব্রাহিমপুর, ঢাকা

লক্ষ্য রাখতে হবে, সামনের দিনগুলো যেন এমন কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, যা নির্বাচনকালীন পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল ও সংঘাতময় করে তোলে।

মো. আরিফুর রহমান

দেলপাড়া, নারায়ণগঞ্জ

আমাদের প্রত্যাশা অতীতের সব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা না হয় সেজন্য শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

মারুফ

বাসাবো, ঢাকা

আশা করি, সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অত্যন্ত সুস্থ সুন্দর পরিবেশে এবং যে দলই জয় লাভ করবে তা সহজভাবে গ্রহণ করে নেবেন অন্যান্য রাজনৈতিক দলসমূহ।

রাসেল আহমেদ

মুগদা, ঢাকা