বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে মাদারীপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদ সভা

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:০৯

‘জাতির পিতার সম্মান, রাখবো মোরা অম্লান’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সকালে মাদারীপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে ও শিবচর উপজেলা ইলিয়াছ আহম্মেদ চৌধুরী মিলনায়তনে সকল দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এর অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় বক্তারা বলেন, মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। কোনো ব্যক্তি বা রাষ্ট্রের ঐতিহ্য-ইতিহাসকে স্মরণ করার জন্য ভাস্কর্য তৈরি করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে কিছু মৌলবাদী গোষ্ঠী মূর্তি ও ভাস্কর্যের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে যারা সমালোচনা করেন তাদের মতো মৌলবাদী ও উগ্রবাদীর বাংলায় কোনো ঠাঁই নাই হুঁশিয়ারি দিয়ে সভায় তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। 

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, বিজ্ঞ ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মামুনুর রশিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম, সরকারি সুফিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ রীনা রানী বৈদ্যসহ আরো অনেকেই। 

উক্ত প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাদারীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাইফুদ্দিন গিয়াস। সভায় মুজিববর্ষের থিমসং পরিবেশনার মাধ্যমে দাঁড়িয়ে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এসময় জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, আজকে আমরা মাদারীপুর জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একত্রিত হয়েছি অবশ্যই একটি বিষয় আছে। এই বিষয়ে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন মাদারীপুর সরকারি কলেজের সম্মানিত অধ্যক্ষ অধ্যাপক রেবতী মোহন সরকার। তিনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন। আমি ওনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা জানেন যে, কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে যে একটি ঘটনা ঘটেছে। আজ সারা বাংলাদেশে একযোগে সকল সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী ঢাকায় সকল ক্যাডাররা সম্মিলিতভাবে এই প্রতিবাদ সভায় অংশ নিয়েছেন। আমরা জেলা পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ে একযোগে একত্রিত হয়েছি।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কিছু বলার জন্য, এটা দিনের পর দিন রাতের পর রাত বছরের পর বছর চলে গেলেও আলোচনা করলেও শেষ হবে না। তিনি হচ্ছেন মহা সমুদ্র।

আরো পড়ুন: ‘প্রধানমন্ত্রীর সাহসের কল্যাণেই হয়েছে পদ্মাসেতু’

সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে শুধু পোষ্টার বা দেয়াল ধারণ করলেই হবে না, বঙ্গবন্ধুকে বুকের মনিকোঠায় ধারণ করতে হবে। অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তারা বঙ্গবন্ধুর জীবন আদর্শ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। 

অপরদিকে কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে শিবচরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে ইলিয়াছ আহম্মেদ চৌধুরী মিলনায়তনে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম রকিবুল হাসান, শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিরাজ হোসেন, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অনুপম রায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ, উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, সোনালী ব্যাংকের শিবচর শাখার ম্যানেজার মো. তৌফিক এলাহী জোওয়াদারসহ উপজেলায় কর্মরত সকল দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে এই প্রতিরোধ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত কর্মকর্তারা ভাস্কর্য ভাঙার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিদ্রা জানান।

এসময় সভাপতির বক্তব্যে শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, জাতির পিতার প্রতি অসম্মান, জাতির পিতার প্রতি আঘাত, এটি বাংলাদেশের প্রতি আঘাত। যারা ভাস্কর্য ভাঙার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িত তাদেরকে হুশিয়ার করে দিতে চাই। 

তিনি আরও বলেন, জাতির পিতার ভাস্কর্যে যদি ফের আঘাত হানা হয় তাহলে আমার সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা তা কোনোভাবেই সহ্য করবো না।

ইত্তেফাক/এএএম