খুলনা বিভাগে চার বছরে ১১৪ নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ২২:৪৪

অব্যাহত লোকসানের কারণে একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেলেও খুলনা বিভাগে বেসরকারি উদ্যোগে নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠছে। গত চার বছরে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১১৪টি ছোট, বড় ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ সময় নতুন শিল্প-কলকারখানায় বিনিয়োগ হয়েছে ১৩২২৭৩.৫৪৫০ মিলিয়ন টাকা। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩ হাজার ২২৭ কোটি ৩৫ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এছাড়া নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ২১ হাজার ৫৪৯ জনের।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) অভিমত, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, চাহিদা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে খুলনা বিভাগে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে। ফলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলা খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে ১১৪টি ছোট, বড় ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায়।

নতুন গড়ে ওঠা উল্লেখযোগ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে—জুট অ্যান্ড টেক্সটাইল, এলপি গ্যাস, অটো রাইস মিল, মাছের হ্যাচারি ও হিমায়িত মত্স্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, ফুড অ্যান্ড এলাইড প্রোডাক্টস, ক্যাটল, পোলট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিড, প্রকৌশল শিল্প, রসায়ন শিল্প, ফার্মাসিউটিক্যাল, ফার্টিলাইজার, কোল্ড স্টোরেজ, প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ইত্যাদি।

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার জামান জুট মিল লিমিটেডের অন্যতম             অংশীদার (পার্টনার) কামরুজ্জামান বলেন, ২০১৭ সালে তাদের মিলটি নির্মাণ করা হয়। মিলটিতে বর্তমানে প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত। এই মিলের উত্পাদিত জুট ইয়ান বেশির ভাগ ভারতে রপ্তানি করা হয়। জুট ইয়ান দুবাইতেও রপ্তানি করা হয়।

বাগেরহাটের গ্রিন বোর্ড অ্যান্ড ফাইবার মিল লিমিটেডের কো-অর্ডিনেটর শেখ গোলাম কিবরিয়া মিন্টু বলেন, তাদের মিলটি এখনো ট্রায়ালে রয়েছে। করোনার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি উত্পাদনে যেতে কিছুটা সময় লাগছে।

কুষ্টিয়ার এম ওয়াজি জুট মিল লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান রমজান বলেন, ২০১৪ সালে তাদের মিলটি নির্মাণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মিলটি লাভজনক। এই মিলের উত্পাদিত রাইস ব্যাগ ও পাটের সুতা ভারত ও চীনে রপ্তানি করা হয়। তিনি জানান, মিলটিতে বর্তমানে শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা ৪৮০ জন।

খুলনা বিভাগীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তপক্ষের (বিডা) পরিচালক প্রণব কুমার রায় বলেন, মানুষের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা অঞ্চলে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন। ফলে এ অঞ্চলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। শত শত বেকার যুকক চাকরি পাচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হচ্ছে।