করোনাকালীন অবসরে ঘর মোছা, ঝাড়ু দেয়া, কাপড় ধোয়া ইত্যাদি গৃহস্থালির কাজ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও শিল্পী ফজলুর রহমান বাবু। সোমবার সন্ধ্যায় ঘরের কাজের মূল্যায়ন ও গৃহস্থালির কাজ নিয়ে বৈষম্যমূলক ধারনার অবসানে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের আয়োজনে চ্যানেল ২৪-এ প্রচারিত বিশেষ টকশো 'ভিন্নরূপে পুরুষ-রান্না উৎসব ২০২০'-এ এমন অভিজ্ঞতার কথাই বললেন তিনি।
করোনাকালীন সময় ও লকডাউনের অভিজ্ঞতা শেয়ার ফজলুর রহমান বাবু করে বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমাদের মধ্যে একটা মানসিকতা তৈরি হচ্ছে যে, গৃহস্থালির কাজ বুঝি মেয়েদেরই কাজ, যা পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। পেশাগত কাজে ব্যস্ত থাকায় ঘরের কাজে একদমই সময় দিতে পারি না। তবে করোনাকালীন সময়ে ঘর মোছা, ঝাড়ু দেয়া, বাড়ি-ঘর পরিষ্কার করা, কাপড় ধোয়াসহ গৃহস্থালির নানা কাজ করেছি।
স্বনামধন্য উপস্থাপক নাভিদ মাহবুবের সঞ্চালনায় 'চ্যানেল ২৪'-এর পর্দায় আজ থেকে টানা তিন দিন প্রচারিত হবে বিশেষ টকশো 'ভিন্নরূপে পুরুষ-রান্না উৎসব ২০২০'। ঘরের কাজের মূল্যায়ন ও গৃহস্থালির কাজ নিয়ে বৈষম্যমূলক ধারনার অবসানে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের আয়োজিত এই টকশোর প্রথম পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও শিল্পী ফজলুর রহমান বাবু এবং অ্যাকশনএইড ইন্টারন্যাশনালের পাওয়ার প্রজেক্ট-এর সাউথ এশিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. হেলাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ভিন্নরূপে পুরুষ রান্না উৎসব ২০১৭ সাল থেকে শুরু করা হলেও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ মূলত গৃহস্থালির সেবামূলক কাজের স্বীকৃতির বিষয়ে কাজ করে আসছে ২০১২ সাল থেকে। রান্না উৎসব ছাড়াও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ গৃহস্থালির কাজের স্বীকৃতির লক্ষ্যে ফটোগ্রাফি কম্পিটিশনেরও আয়োজন করেছে। তিনি আরো বলেন, পুরুষদের রান্না উৎসব ব্যাপারটি জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য যে, একজন নারী দৈনিক ৮ঘন্টা গৃহস্থালির কাজে ব্যয় করেন, যার আনুমানিক বার্ষিক মূল্য জিডিপি'র প্রায় ৭৭ শতাংশের সমপরিমাণ। অর্থনীতিতে নারীর এ অবদান বরাবরই রয়ে যাচ্ছে হিসেবের বাইরে। যা যুক্ত হলে জাতীয় উৎপাদনে নারীর অবদান ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৪০ শতাংশে। আমাদের সমাজের প্রচলিত ধারণা হলো, ঘরের কাজ একান্ত নারীদেরই এবং তাদেরকেই করতে হবে। বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিপরীতে কোন কোন পুরুষ নিয়মিতভাবে গৃহস্থালির সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। পুরুষদের এই ভিন্নরূপ সমাজের সামনে তুলে ধরে তাদেরকে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করে অন্য পুরুষদের উৎসাহিত করা, গৃহস্থালির কাজের স্বীকৃতি প্রদান ও কাজসমূহ ভাগ করে নেয়া এবং নারীদের উপর এ কাজের বৈষম্যমূলক চাপ কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে এবং ২০১৯ সাল থেকে দিনাজপুর জেলার উপজেলা পর্যায়ে পুরুষদের রান্নার উৎসব আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর আয়োজন করা হচ্ছে 'ভিন্নরূপে পুরুষ- রান্না উৎসব ২০২০'।
আজকের টকশোতে লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত “ভিন্নরূপে পুরুষ-রান্না উৎসব ২০২০”-এর সম্প্রচার করা হয়। লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত উৎসবে ১ম স্থান অধিকার করেন জিল্লুর রহমান, ২য় স্থান অধিকার করেন ইসমাইল হোসেন এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন আব্দুল মালেক।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
