ঁজীববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র
সুলতানা নাসরীন আক্তার
সহযোগী অধ্যাপক
গুলশান ডিগ্রী কলেজ
প্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ বাংলাদেশের সব বোর্ডে বর্তমানে এক প্রশ্ন হচ্ছে। তাই তোমাদের সব অধ্যায়কে গুরুত্ব দিতে হবে এবং উদ্দীপক ও প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে সম্যক জ্ঞার্নাজন অত্যন্ত জরুরী।
গুলশান কলেজের বার্ষিক বনভোজনে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষক রিসোর্টের পুকুরে জাল দিয়ে মাছ ধরতে লাগলো । কেউ কেউ বড়শি দিয়েও মাছ ধরছিল, বড়শিতে টোপ হিসেবে ছিলো কেচোঁ , বড়শিতে নানা ধরনের কার্প ধরা পড়ল। অন্যদিকে জালেও কার্প মাছের ডিম, লার্ভা ও কাকঁড়া উঠল।
ক) উপ-প্রজাতি কি ? ১
খ) অগ্রাধিকার আইন বলতে কি বুঝ ? ২
গ) উদ্দীপকের পর্ব দুইটির রক্তসংবহন তন্ত্রের মধ্যে তুলনা কর। ৩
ঘ) উদ্দীপকের দুটি পর্বের প্রাণীদের মধ্যে কোন পর্বটি উন্নত এবং কেন? যুক্তিসহকারে ব্যাখা কর। ৪
উত্তর ঃ ক) সাদৃশ্য নেই এই ধরনের জীবগোষ্ঠী যখন পরস্পরের মধ্যে আন্তঃপ্রজননের মাধ্যমে জীনের বৈষম্য ঘটায় তখন তাদের ওই প্রজাতির উপজাতি বলে।
খ) অগ্রাধিকার আইন হচ্ছে ICZN ( International Code of Zoological Nomenclature) নামক সংস্থা দ্বারা প্রণীত প্রাণীর একাধিক গণ বা প্রজাতির নাম থাকলে সেই নামই গ্রহণযোগ্য হবে সেটা প্রথমে বর্ণনা করা হয়েছে বা পুরাতন নাম। অন্য নাম গুলো সিনোনিম হিসাবে বাতিল হয়ে যাবে। এছাড়াও ইচ্ছামত নাম পরিবর্তন করা যাবে না।
গ) উদ্দীপক অনুযায়ী জালে ধরা পড়া মাছগুলো র্কাপ জাতীয় অর্থাত্ রুই, তেলাপিয়া, ইত্যাদি। এই মাছ গুলো মেরুদণ্ডী পর্বভুক্ত প্রাণী। অন্যদিকে জালের সাথে উঠে আসা কাকঁড়াগুলো Arthropoda পর্বের। কাকঁড়ার দেহে যে ধরনের রক্তসংবহন দেখা যায় তা হচ্ছে মুক্ত সংবহন তন্ত্র, অন্যদিকে মাছের দেহে বদ্ধ সংবহন তন্ত্র বিদ্যমান। নীচে পার্থক্য দেয়া হলো।
ঘ) উদ্দীপকের মাছ গুলো হচ্ছে Chordata পর্বভুক্ত প্রাণী। অন্যদিকে কাকঁড়া হচ্ছে Arthropoda পর্বভুক্ত প্রাণী। Chordata পর্বের প্রাণীরা Arthropoda প্রাণীর চেয়ে উন্নত। নিচে তা ব্যাখা করা হলো।
মাছের মেরম্নদন্ড আছে কিন্তু কাকঁড়ার মেরুদন্ড অনুপস্থিত। মাছের অন্তঃকংকাল অস্থি নিমিত কিন্তু কাকঁড়ার কোনো অন্তঃকংকাল নেই। বহিঃকংকাল আছে যা কিউটিকল নির্মিত। মাছ সুগঠিত ফুলকার সাহায্যে শ্বসন কাজ চালায়। কাকঁড়া শাখা প্রশাখা যু্ক্ত ট্রাকিয়াল তন্ত্রের মাধ্যমে শ্বসন র্কায সম্পন্ন করে। মাছের দর্শন ইন্দ্রিয় হিসাবে পূর্ণাঙ্গ ১ জোড়া চোখ বিদ্যমান অন্যদিকে Arthropoda পর্বের প্রাণীদের এক জোড়া পুঞ্জাক্ষি বিদ্যমান। Chordata পর্বের রক্তসংবহন তন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির এবং Arthropoda পর্বের রক্তসংবহন তন্ত্র উন্মুক্ত প্রকৃতির এবং দেহগহব্বরে রক্তে পূর্ণ হিমোসিল দেখা যায়। এদের রক্ত বর্ণহীন কোনো শ্বাসরঞ্জক থাকে না। Chordata পর্বের প্রাণীদের রক্তে তিন প্রকার রক্ত কণিকা বিদ্যমান, শ্বাসরঞ্জক অর্থাত্ লোহিত কণিকাও বিদ্যমান। Chordata পর্বের প্রাণীদের (মাছের) হূদপিণ্ড ২টি মূল প্রকোষ্ঠ ও ১টি উপপ্রকোষ্ঠ বিভক্ত। অন্যদিকে Arthropoda পর্বের প্রাণীদের হূদপিণ্ড ৭টি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত। Chordata পর্বের প্রাণীদের ধমনী ও শিরাতন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত হয়। Arthropoda পর্বের প্রাণীদের ধমনী ও শিরাতন্ত্র না থাকায় দেহ গহব্বর গুলো হিমোলিম্ফ নামক তরলে পূর্ন থাকে। Chordata পর্বের প্রাণীরা প্রকৃত সিলোমেট প্রাণী। Arthropoda পর্বের প্রাণীরা অন্তঃনিষেক ঘটে কিন্তু মাছে বহিঃনিষেক ঘটে। পরিশেষে মাছের স্ট্রীমলাইন দেহাকৃতি । বায়ু থলির উপস্থিতি ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য ও উন্নত বৈশিষ্ট্যর কারণে বলা যায় যে Chordata (মাছ) , Arthropoda (কাকঁড়া) হতে উন্নত প্রাণী।
কাকঁড়ার ডিম থেকে পরস্ফুিটন সরাসরি হয় পরোক্ষ, অন্যদিকে মাছের ডিম পরস্ফুিটন সরাসরি হয়। অতএব নিয়োযোন প্রক্রিয়াতেও Arthropoda হইতে Chordata অনেক উন্নত। সুতরাং, বাহ্যিক গঠন ও জৈবিক কার্যাবলী বিশ্লেষণ করে দেখা যায় উভয় দিক হইতে Chordata পর্ব অর্থাত্ মাছ , Arthropoda পর্ব অর্থাত্ কাকঁড়ার চেয়ে উন্নত।
