ঘরের কাজের মূল্যায়ন ও গৃহস্থালির কাজ নিয়ে বৈষম্যমূলক ধারনার অবসানে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের আয়োজনে চ্যানেল ২৪-এর পর্দায় আয়োজিত হলো বিশেষ টকশো 'ভিন্নরূপে পুরুষ-রান্না উৎসব ২০২০'-এর দ্বিতীয় পর্ব। নাভিদ মাহবুবের সঞ্চালনায় তিনদিন ব্যাপী টকশোর দ্বিতীয় পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া এবং অ্যাকশনএইড ইন্টারন্যাশনালের পাওয়ার প্রজেক্টের সাউথ এশিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. হেলাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী, এই বিপুল নারী জনগোষ্ঠীর শক্তিকে হিসেবের বাইরে রেখে আমরা এসডিজি অর্জন করতে সক্ষম হবো না। সুতরাং নারীদের কাজকেও হিসেবের আওতায় নিয়ে আসতে হবে, নারীর ঘরের কাজের মূল্যায়ন করতে হবে।
এ সময় হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের সমাজে নারীরাই মূলত ঘরের কাজ করেন, কিন্তু আমরা এটাও দেখেছি কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিছু পুরুষরাও এসব কাজ করেন, কিন্তু সামাজিকভাবে এসব পুরুষদের কোণঠাসা করে রাখা হয়, তারা মেয়েলি কাজ করছেন বা তার স্ত্রীর বশীভূত হয়ে আছেন এমন কথা বলা হয়। আমরা সামাজিক এই দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য যেসব পুরুষরা ঘরের কাজ করেন তাদেরকে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপনের জন্য এ উদ্যোগ গ্রহণ করি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে চরম দারিদ্রের হার ১২ শতাংশ এবং দারিদ্রের হার ২৪ শতাংশ। এই দারিদ্র অধিকাংশই নারীদের। এসব নারীরা যদি গৃহের কাজ পুনর্বন্টনের মাধ্যমে হাতে সময় পান এবং বাহিরের আয়মূলক কাজে যুক্ত হতে পারেন তবে দারিদ্রের হার কমে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
উল্লেখ্য যে, একজন নারী দৈনিক ৮ঘন্টা গৃহস্থালির কাজে ব্যয় করেন, যার আনুমানিক বার্ষিক মূল্য জিডিপি'র প্রায় ৭৭ শতাংশের সমপরিমাণ। অর্থনীতিতে নারীর এ অবদান বরাবরই রয়ে যাচ্ছে হিসেবের বাইরে। যা যুক্ত হলে জাতীয় উৎপাদনে নারীর অবদান ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৪০ শতাংশে। আমাদের সমাজের প্রচলিত ধারণা হলো, ঘরের কাজ একান্ত নারীদেরই এবং তাদেরকেই করতে হবে। বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিপরীতে কোন কোন পুরুষ নিয়মিতভাবে গৃহস্থালির সেবামূলক কাজ করে যাচ্ছেন। পুরুষদের এই ভিন্নরূপ সমাজের সামনে তুলে ধরে তাদেরকে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করে অন্য পুরুষদের উৎসাহিত করা, গৃহস্থালির কাজের স্বীকৃতি প্রদান ও কাজসমূহ ভাগ করে নেয়া এবং নারীদের উপর এ কাজের বৈষম্যমূলক চাপ কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ২০১৭ সাল থেকে প্রতিবছর গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটে এবং ২০১৯ সাল থেকে দিনাজপুর জেলার উপজেলা পর্যায়ে পুরুষদের রান্নার উৎসব আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ বছর আয়োজন করা হচ্ছে 'ভিন্নরূপে পুরুষ- রান্না উৎসব ২০২০'।
আজকের টকশোতে গাইবান্ধার রাধাকৃষ্ণপুরে অনুষ্ঠিত 'ভিন্নরূপে পুরুষ-রান্না উৎসব ২০২০'র সম্প্রচার করা হয়। গাইবান্ধার রান্না উৎসবে প্রথম স্থান অধিকার করেন মো. হাফিজুর রহমান, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন আরিফুল ইসলাম এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন শ্রী সুরেশ চন্দ্র রায়।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
