আরিফুর রহমান
দেশের প্রথম ‘ডিজিটাল সিটি’ হচ্ছে সিলেট। ইতেমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে মত দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই ডিজিটাল সিটির টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এরপর শুরু হবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী ঘরে বসেই সব নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। জানাগেছে, এ প্রকল্পের আওতায় সারাসিলেট নগরী সিসি ক্যামেরার আওতায়ও চলে আসবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ মডেলের অনুপ্রেরণায় সিলেটকে ডিজিটাল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ হন জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আবদুল মোমেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে সিলেটে এক অনুষ্ঠানে নিজের পরিকল্পনার কথা জানান ড. মোমেন। ‘ডিজিটাল সিলেট’ গড়ার স্বপ্নের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন ড. মোমেন। প্রধানমন্ত্রী তার প্রস্তাবে সায় দেন। পরবর্তীতে একটি প্রকল্প আকারে ‘ডিজিটাল সিলেট নগরী’ শীর্ষক প্রস্তাবনাটি প্রধানমন্ত্রী বরাবর পেশ করা হয়। তিনি এতে ইতিবাচক সাড়া দেন। ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঘরে বসেই সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন নগরবাসী। এ প্রকল্পের আওতায় আধুনিক স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে উঠবে সিলেট।
ডিজিটাল নগরীতে বিদ্যুত্, পানি ও গ্যাস বিল, ট্যাক্স
পরিশোধ সবই করা যাবে অনলাইনে ঘরে বসেই। সিলেটের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে কখন কোন ডাক্তার বসেন, হাসপাতালে কতটি সিট খালি আছে, কখন কোন সেবা পাওয়া যাবে প্রভৃতি সম্পর্কেও ঘরে বসেই জানতে পারবেন নগরবাসী।
প্রকল্পের আওতায় পুরো নগরীতে ৩৮৩টি অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে নিশ্চিত হবে নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টিও। আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় সবকিছু মনিটরিং করা হবে বলে নাগরিক ভোগান্তিও কমে যাবে অনেকটাই। সম্প্রতি সিলেটের সার্বিক উন্নয়ন সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় ‘ডিজিটাল সিলেট সিটি’ প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলেন ড. মোমেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল সিটি হবে সিলেট। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। প্রকল্পের টেন্ডার খুব শিগগিরই আহ্বান করা হবে।
তিনি জানান, সিলেটে পূর্ণাঙ্গ একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ওসমানী মেডিকেল কলেজে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট একটি ছাত্রাবাস নির্মাণ, শহীদ শামসুদ্দিন শিশু হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, সিলেট সদর হাসপাতাল নির্মাণ, সিলেট ডেন্টাল হাসপাতালের পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া সিলেটের বিভিন্ন সড়ক সংস্কারে ৫০০ কোটি টাকা সরকার বরাদ্দ দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
