আদিতমারীতে জনবসতি এলাকায় অনুমোদনবিহীন ইটভাটা!

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২৪

আদিতমারী (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, নেই জেলা প্রশাসকের অনুমোদন। কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার পরেও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ইটভাটার অনুমোদন না থাকলেও ইট তৈরির কার্যক্রম বন্ধ নেই। একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অবাধে ইট তৈরি করেই চলছেন অনুমোদনবিহীন ইটভাটার মালিক ফারুক হোসেন। তিনি কোনো কিছুই তোয়াক্কা করছেন না।

সরেজমিনে আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের দেওডোবা গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, দেওডোবা বাজার থেকে পাঁচশ’ গজ দূরে এএফএইচ নামের একটি অনুমোদনবিহীন ইটভাটা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম শুরু করেছেন। ইটভাটা তৈরির শুরুতেই এলাকাবাসীর অভিযোগ থাকলেও এসব অভিযোগ তোয়াক্কা আমলে নেয়নি কেউ। বর্তমানে ভাটাটিতে চলছে ইট তৈরির কার্যক্রম। তবে এখন পর্যন্ত ভাটায় ইট পোড়ার কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি। দু’একদিনের মধ্যে ভাটায় আগুন দেয়া হবে বলে এলাকাবাসী দাবি করছেন। এদিকে ইটভাটার চারিদিকে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি থাকায় ইটভাটাটি চালু হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সেখানকার সাধারণ লোকজন। তারা দ্রুত অনুমোদনবিহীন এএফএইচ নামের ইটভাটাটি বন্ধের জোর দাবি জানান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, এএফএইচ ইটভাটার মালিক ফারুক হোসেন ও তার আরও দুই বন্ধু মিলে ইটভাটাটি গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এরা তিনজনই বিভিন্ন ইটভাটায় কাজ করতেন বলে এলাকাবাসী দাবি করেন।

পলাশী ইউনিয়নের দেওডোবা গ্রামের বাসিন্দা ও ইউপি সদস্য রণজিত্ কুমার জানান, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা চালু হলে সেখানকার লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কিন্তু প্রশাসন অনুমোদন দিলে কিছুই করার থাকবে না। তিনি এটি বন্ধের জোর দাবি জানান। এএফএইচ ব্রিকস-এর মালিক ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের সাথে এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান জানান, ইটভাটায় আগুন লাগানোর অনুমোদন দেয়া হয়নি। এরপরেও যদি ভাটায় আগুন লাগানো হয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি দাবি করেন।