গুরুদাসপুরে প্রতারণার শিকার মা জমি ফিরে পাওয়ার আকুতি

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩১

গুরুদাসপুর (নাটোর) সংবাদদাতা

৭৭ বছরের বৃদ্ধা রোয়াজান বেওয়ার নিজ নামীয় সাড়ে ৪৪ শতাংশ জমি গোপনে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই সন্তান নজরুল ও সায়রা বেগমের বিরুদ্ধে। চলতি বছরের জুন মাসে মায়ের অসুস্থতার সুযোগে দুই ভাই-বোন মায়ের সাথে ওই প্রতারণা করেছে। প্রতারণার শিকার রোয়াজান বেওয়া এখন নিজের জমি ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজের জমি ফিরে পেতে নিজ বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন ওই বৃদ্ধা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার ছেলে মতিউর রহমান, নজিবুদ্দিন, রমজান আলী, মিজানুর রহমান ও মেয়ে সফুরা বেগম। সন্তানদের কাছে প্রতারণার শিকার রোয়াজান বেওয়ার বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর মোল্লাপাড়া গ্রামে। রোয়াজান বেওয়ার আট সন্তানের মধ্যে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন আগেই। আর মেঝো ছেলে মতিউরের কাছে স্বামীর বসতভিটাতেই বসবাস করতেন তিনি।

সম্মেলনে রোয়াজান বেওয়া দাবি করেন, ৩০ বছর আগে তিনি স্বামীকে হারিয়েছেন। এরপর থেকে অন্য ছেলেরা পৃথক রয়েছেন। আর তিনি মেঝো ছেলের সাথে বসবাস করেন। হঠাত্ ছয় মাস আগে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তার চিকিত্সার জন্য ছেলে নজরুল ইসলাম ও বড় মেয়ে সায়েরা বেগম তাকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিত্সার কথা বলে বিভিন্ন কাগজপত্রে তার টিপসহি নেন। সুস্থ হয়ে পুনরায় মেঝো ছেলের কাছে ফিরে যান তিনি। এরপর গত ১ জানুয়ারি প্রতারক ছেলে-মেয়ে রোয়াজান বেওয়ার নিজ নামীয় নাজিরপুর মৌজার ২৭৭ ও ৩২৬ নম্বর দাগের সাড়ে ৪৪ শতাংশ জমি তাদের বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় রোয়াজান বেওয়ার অন্য ছেলে-মেয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ছয় ওয়ারিশদের গোপন করে তাদের মায়ের সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন প্রতারক নজরুল ও সায়রা।  

রোয়াজান বেওয়া হারানো সম্পত্তি ফিরে পেতে আকুতি জানিয়ে আরো বলেন, তার নিজ নামীয় ওই সাড়ে ৪৪ শতাংশ জমিই ছিল সম্বল। কিন্তু অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে ছেলে নজরুল ও মেয়ে সায়রা তার সহায়-সম্বল প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে। এখন ওই সম্পত্তি না থাকায় তার কোনো সন্তানই তাকে দেখভালের দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। তাই তিনি ওই সম্পত্তি ফেরত পেতে আকুতি জানিয়েছেন।

প্রতারক নজরুল জানান, এ বিষয়ে সালিশে তার মায়ের সম্পত্তি ফেরত দেওয়ার কথা হয়েছে। যে কোনো সময় জমি ফেরত দেওয়া হবে। নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রোয়াজান বেওয়ার একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের উভয়পক্ষকে নোটিসের মাধ্যমে পরিষদে ডাকা হয়েছে। আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।