এ কাত্তর যারা নিজের চোখে দেখেছেন, তাদের নিশ্চয় স্মরণে আছে, হাতের মুঠোয় জীবন পুরে, ঘরদোর ছেড়ে মাঠে-বাটে, বনে বাদাড়ে ঘুরে, দেশত্যাগী শরণার্থী হয়ে হানাদার বাহিনীর হামলা থেকে প্রাণ বাঁচানোর আর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার, গেরিলা আক্রমণ শানানোর সেই অগ্নিঝরা মাসগুলোতে যে মহামানব ছিলেন একটা জাতির বিস্ফোরক শক্তির উত্স, জাতিসত্তা, ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে এদেশের স্বাক্ষর-নিরক্ষর, কৃষক, শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী, ছাত্রসমাজ নির্বিশেষে সবাইকে মাতৃভূমির মুক্তির মহামন্ত্রে যিনি দীক্ষিত করেছিলেন, যার বাণী এবং পথনির্দেশনা মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস জাতির প্রাণস্পন্দনে একাকার ছিল, যার ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ঘোষণায় সমগ্র বঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধের মহাবিজয়ের পথে, তিনিই তো বাংলাদেশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য, এক ও অভিন্ন।
মুক্তির লড়াইয়ের বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার এই বীজমন্ত্র রমনা রেসকোর্সের ময়দানে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হয়ে আছড়ে পড়ল বাংলাদেশের প্রতিটি শহর, বন্দর, গ্রাম গঞ্জ এবং প্রান্তিক এলাকায়। একটি ভাষণ যে গোটা জাতিকে এতটা একাত্ম করতে পারে, তার নজির বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। বঙ্গবন্ধুর এই অনন্যসাধারণ ভাষণের জন্যই বিশ্ববিখ্যাত Newsweek পত্রিকা তার বক্তৃতার সামগ্রিক যৌক্তিকতার ভিত্তিতেই বঙ্গবন্ধুকে ‘Poet of politics' হিসেবে আখ্যায়িত করে, যা পত্রিকাটি ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সংখ্যায় প্রকাশ করে। পত্রিকায় বলা হয় : "Mujib can attract a crowd of million people to his rallies and hold them spellbound with great rolling waves of emotional rhetoric. He is a poet of politics. So his style may be just what was needed to unite all the classes and ideologies of the region."
বঙ্গবন্ধুর অতুলনীয় এই শৈলীর কারণেই অলৌকিক এক ব্যঞ্জনায় তার শ্রোতাদের ’৭১ সালে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিল, বর্তমানেও করছে এবং অনাগত যুগে যুগে করে যাবে। Coleridge-এর The Ancient Mariner কবিতার বৃদ্ধ নাবিক যেমন অতিথিকে তার চোখের দৃষ্টি দিয়ে মোহাবিষ্ট করেছিল। এখানে বঙ্গবন্ধু তার শৈলী দিয়ে শতকোটি মানুষকে আবিষ্ট করেছেন। Newsweek-এর প্রতিবেদক সঠিকভাবেই বঙ্গবন্ধুর বিশেষ এই শৈলীকে আবিষ্কার করেছেন। এটি সেই শৈলী, যার মাধ্যমে তিনি সকল শ্রেণির পেশা ও আদর্শের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ববর্তী সফল অসহযোগ আন্দোলন এবং স্বায়ত্তশাসনের অভিজ্ঞতা বঙ্গবন্ধুকে সমৃদ্ধ করেছিল। এই সাফল্যজাত অনুপ্রেরণা তিনি সঞ্চারিত করেছিলেন সমগ্র জাতির মধ্যে। তার সেই প্রেরণাই ছিল মুক্তিসংগ্রামের মূল চালিকাশক্তি, যা ছাড়া ডিসেম্বরের বিজয় হতো সুদূরপরাহত। বঙ্গবন্ধুর একটি জাতিকে একটি একক স্বপ্নে উজ্জীবিত করা এবং এক ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষিত করার মধ্যেই নিহিত ছিল মুক্তিযুদ্ধে মহাবিজয়ের চাবিকাঠি। বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ আন্দোলনের সূচনাতেই বাংলাদেশ কার্যত স্বাধীন হয়ে যায় এবং তখন থেকে মূলত তার নির্দেশমতোই দেশ চলতে থাকে। একাত্তরের পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্র্যাকডাউনের পর চট্টগ্রামের কালুরঘাট ট্রান্সমিটার থেকে সম্প্রচারিত বেতারবার্তায় বঙ্গবন্ধুর দেওয়া নির্দেশানুযায়ী সরাসরি প্রতিরোধ সংগ্রাম বা মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ১৯৭২ সালের ৭ই জুন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু তার বক্তৃতায় ২৫শে মার্চ প্রসঙ্গে বলেন : “আমি যখন পিলখানার সাথে যোগাযোগ করতে পারলাম না তখন আমি চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ করে বললাম, ‘আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। তোমরা বাংলার সব জায়গায় ওয়ারলেসে এ খবর দিয়ে দাও। পুলিশ হোক, সৈন্যবাহিনী হোক, আওয়ামী লীগ হোক, ছাত্র হোক যে যেখানে আছে—পশ্চিমাদের বাংলা থেকে খতম না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাও। বাংলাদেশ স্বাধীন’।”
অতএব বলা চলে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এদেশের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। মূলত বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় প্রায় দুই দশকব্যাপী স্বনামে-বেনামে আমাদের স্বাধীনতার সুদীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামেরই ‘সর্বশেষ সশস্ত্র অধ্যায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, যার পরিসমাপ্তি হানাদার বাহিনীর চূড়ান্ত পরাজয় ও আত্মসমর্পণের পর বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামে এক নতুন দেশের উদ্ভবের মধ্যে দিয়ে।
শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের মানুষের মনে স্বাধীনতার বীজ রোপণ করে তাকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ফুলবতী-ফলবতী মহিরুহে পরিণত করার দিকে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে এবং বাঙালি জাতিসত্তার বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর জীবনব্যাপী সংগ্রাম ও দূরদর্শী সফল নেতৃত্ব প্রদানের স্বীকৃতিতেই জাতি মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে তাতে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে এবং স্বাধীনতা অর্জনের অব্যবহিত পরে ‘জাতির পিতা’ অভিধায় ভূষিত করেছে। ভারত উপমহাদেশীয় জ্ঞানমার্গে ‘পঞ্চপিতা’র কথা বলা হয়েছে। এরা হলেন : জন্মদাতা, ভয়ত্রাতা, কন্যাদাতা, দীক্ষাদাতা ও অন্নদাতা। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনাদর্শ বিচারে এগুলোর মধ্যে থেকে অন্তত দুটো পরিচয় বঙ্গবন্ধুর ওপর আরোপ করতে পারি—দীক্ষাদাতা ও ভয়ত্রাতা। মূলত এ দুই পরিচয়ে তিনি ‘জাতির পিতা’ বটে। এদেশের মানুষের সংগ্রামমুখর জীবনের প্রতি স্তরে স্তরে বঙ্গবন্ধু তাদের দীক্ষিত করেছেন ঔপনিবেশিক, নব-ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ, কালাকানুন থেকে মুক্তির সংগ্রামে। আবার এই দীক্ষা নেওয়ার পরিণতিতে জাতির ওপর যে-স্বৈরাচারী নিপীড়ন নেমে আসতে পারে, তা থেকে ত্রাণের জন্য যথার্থ নেতৃসুলভ দূরদৃষ্টি নিয়ে জনগণকে করে তুলেছেন সাহসী ও সংশপ্তক মনোভাবাপন্ন। তিনিই উচ্চারণ করেছেন সেই অমোঘ অনুপ্রেরণার বাণী : ‘মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব, ইনশাল্লাহ্!’ এটা এক অসমসাহসী ভয়ত্রাতা মহানেতার উচ্চারণ। দীক্ষা শেষে সম্মুখসমরে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রাক্কালে জাতিকে সকল দ্বিধাদ্বন্দ্ব, ভয়ভীতিমুক্ত করতে বঙ্গবন্ধুর এ বাণী মৃতসঞ্জীবনী মন্ত্রের মতোই কাজ করেছে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পেছনে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু দেশ স্বাধীন হয়ে যাওয়ার পরও বিনা প্রয়োজনে একটা বিদেশি সেনাবাহিনী একটা সদ্য স্বাধীন আত্মমর্যাদাপূর্ণ দেশের ভেতরে থেকে যাবে, এটা বাঞ্ছনীয় হতে পারে না, তা সে যতই বন্ধুরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী হোক না কেন। ১৯৭২-এর জানুয়ারিতে পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে দেশে ফেরার পরপরই বঙ্গবন্ধু ভারতের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ জানান অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য। বঙ্গবন্ধুর প্রখর ব্যক্তিত্বের কাছে নতিস্বীকার করে শ্রীমতী গান্ধী নির্দিষ্ট সময়সীমার ভেতরেই তার সেনাবাহিনী সরিয়ে নিয়ে যান, বাড়তি কোনো উচ্চবাচ্য না করেই। এভাবে স্বদেশকে সম্পূর্ণভাবে বিদেশি সৈন্যের উপস্থিতিমুক্ত করার মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতাকে সুসম্পূর্ণতা দিয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি গণমানুষের আস্থা ও নির্ভরশীলতা এতটাই বেশি ছিল যে, তার কথা প্রতিটি বাঙালির হূদয়কে গভীরভাবে স্পর্শ করত। তিনি নিজের ভাগ্যকে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের সাথে একাকার করে নিয়েছিলেন। ১৯৭৩-এর ৩রা মে বঙ্গবন্ধু তার ব্যক্তিগত নোটবইয়ে লিখেছেন, ‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তা-ই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উত্স ভালোবাসা, অবিনশ্বর ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি আর অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।’ ১৯৪৭-এর একটি ঐতিহাসিক ভুলকে বঙ্গবন্ধু সংশোধন করেছিলেন ১৯৭১-এ বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে সম্ভব করে তোলার মধ্যে দিয়ে। সাতচল্লিশের কুখ্যাত দ্বিজাতিত্ত্বকে অগ্রাহ্য করে দ্বিধাবিভক্ত হিন্দু-মুসলমান চেতনাকে একই বাঙালি জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে সমবেত করে, সেই সঙ্গে বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আর জনজাতিগুলোকেও সম্পৃক্ত করে এক অখণ্ড বাঙালি জাতির রূপ দিয়ে তাকে এক বিস্ফোরক মহাশক্তিতে রূপান্তরিত করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে তরান্বিত করেছে যে ঘটনাগুলো, তার অন্যতম ‘ছয় দফা’ আন্দোলন। ১৯৬৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটি ছয় দফাকে দলীয় কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু ওই ছয় দফার পক্ষে জনমত সংগঠিত করতে দেশব্যাপী একের পর এক জনসভা করেন। এরই অংশ হিসেবে ২৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে এক জনসভায় তিনি ছয় দফাকে ‘নূতন দিগন্তের নূতন মুক্তিসনদ' অভিহিত করেন।’ আমাদের বাঁচার দাবি: ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করেন বঙ্গবন্ধু। ২০শে মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ঢাকার পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনি বলেন, ‘কোনো হুমকিই ছয় দফা আন্দোলনকে প্রতিরোধ করতে পারবে না। ছয় দফা হচ্ছে বাঙালির মুক্তিসনদ।’ ছয় দফা ঠেকাতে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী বহু যড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর দৃঢ় স্থির-প্রতিজ্ঞাবোধ তাকে জনগণমন অধিনায়কে পরিণত করে। ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ বলে খ্যাত ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য’ মামলা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসির কাষ্ঠেও ঝুলাতে চেয়েছিল শাসকেরা। তবু তিনি অনড় থেকেছেন; বিন্দুমাত্র আপস করেননি। ফিরে এসেছেন জনতার কাতারে। ‘শেখ মুজিব’ থেকে হয়ে উঠেছেন ‘বঙ্গবন্ধু’।
বঙ্গবন্ধু বাঙালির বস্তুগত ও ভাবগত দুদিকেরই পূর্ণ মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ধারায় বিকশিত এবং সামাজিক সমতায় বিন্যস্ত একটি নিজস্ব রাষ্ট্র তিনি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তির সমন্বয়ে এ দেশের মানুষকে উপহার দিতে চেয়েছিলেন এবং জীবনের এই ধ্রুবলক্ষ্য অর্জনে সফলও হয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির চরমতম দুর্ভাগ্য, পরাজয়ের গ্লানিবাহী পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের আজ্ঞাবহ দোসর রাজাকার-আলবদর-আলশামসদের প্রেতাত্মাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বেশি দিন তিনি দেশগঠনে নেতৃত্ব দিয়ে যেতে পারলেন না। তাদের ষড়যন্ত্র আজও অব্যাহত। তাই আজও ১৫ই আগস্টের ধারাবাহিকতায় আসে ২১শে আগস্টের মতো কালো তারিখগুলো। স্বাধীন বাংলাদেশে প্রকাশ্যে ভাঙা হয় জাতির জনকের ভাস্কর্য। বাংলার আকাশে-বাতাসে আজও ধ্বনিত হয় উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদী, মৌলবাদী হুংকার-গর্জন। বঙ্গবন্ধু প্রদর্শিত পথেই অদূর ভবিষ্যতের কোনো এক সূর্যকরোজ্জ্বল প্রাতে আমরা এই সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষ সমূলে উত্পাটন করতে পারব বলে দৃঢ় আশা ও বিশ্বাস রাখি।
পরিশেষে, বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ সফল রাজনৈতিক নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সঠিকভাবে চিনতে হলে বুঝতে হবে, আফ্রিকার নক্রুমাসহ নেলসন ম্যান্ডেলা অথবা ভিয়েতনামের হোচিমিনকে বঙ্গবন্ধুর মতো সাম্প্রদায়িক ও বিশ্বের শোষক শক্তির বিরুদ্ধে এমনভাবে সংগ্রাম করতে হয়নি। সোভিয়েত রাশিয়ার লেলিন, তুরস্কের আতাতুর্ক, ভারতের মহাত্মা গান্ধী এবং চীনের মাও সেতুং—এদের নিজ নিজ দেশের জন্য যে অবদান, বাংলাদেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর অবদান তাদের থেকে অনেক অনেক বেশি। বহু যুগ ধরে বাঙালি জাতির অনেক গুণীজন ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ-নজরুলসহ অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ এ ভূখণ্ডে ছিলেন। কিন্তু কোনো ব্যক্তিই বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন দেশ দেওয়ার কথা না ভেবেছেন, না সংগ্রাম করেছেন, না একটি দেশ দিতে পেরেছেন। কেবল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার সেই খোকাই দীর্ঘ সংগ্রাম, সীমাহীন ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ভূখণ্ড উপহার দিয়েছেন বাঙালি জাতিকে। তাই বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য ও অভিন্ন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একজন প্রথিতযশা সংসদ সদস্য Lord Fenner Brockway যথার্থই বলেছেন : ‘In a sense, Sheikh Mujib is a greater leader than George Washington, Mahatma Gandhi and De Valera’.
লেখক :কলামিস্ট, ফোকলোরিস্ট, শিক্ষাবিদ, ইংরেজির অধ্যাপক এবং
উপ-উপাচার্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
