হাতেনাতে ধৃতের ৭ দিন পর শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন হাইকোর্টের

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:১৭

হাতেনাতে তিন আসামি র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর দায়ের করা হয় নিয়মিত মামলা। নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের সাত দিন পর পুনরায় আসামিদের আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এ ধরনের আবেদন করায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাহউদ্দিনকে তলব করেছে হাইকোর্ট। 

আগামী ১২ জানুয়ারি তাকে মামলার কেসডকেট (সিডি) সহ হাইকোর্টে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে করা এক মামলার তিন আসামির জামিন শুনানিকালে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে মুন্সীগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে এই মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের হরগঙ্গা কলেজের একটি মেস থেকে তিনজনকে আটক করে র‌্যাব। আটকের সময়ে মেসের ঐ কক্ষ থেকে ২০০ গ্রাম বিস্ফোরক দ্রব্য, ৪৫টি জিহাদি বইপত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পরদিন মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় মামলা করে র‌্যাব। এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি আবু রায়হান লিমন, সাইফুল্লাহ নাইম ও নাবিল চোকদারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তারা দুটি আবেদনে হাইকোর্টে জামিন চান। তাদের কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। জামিন শুনানিকালে হাইকোর্ট নথি পর্যালোচনায় দেখতে পান যে, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও গত ৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাউদ্দিন এই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর  (শ্যোন অ্যারেস্ট) জন্য ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। একইসঙ্গে সাতদিনের রিমান্ডেরও আবেদন করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আরো পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নকল করে ছাপা

জামিনের রুল শুনানিকালে হাইকোর্টে হাজির হন মামলায় র‌্যাবের বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা। আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে তিনি আসামিদের সাতদিন পর আদালতের মাধ্যমে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তবে তিনি বলেন, মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাহউদ্দিন ঐ শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেছিলেন।  

আসামিদের আইনজীবী মো. নাসির উদ্দিন বলেন, র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দিনই থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। ঐ মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তারের সাতদিন পর এই তিন আসামিকে পুনরায় আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের জন্য শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন করা হয়। এই আবেদনের কোন যৌক্তিকতা নাই। এখানে পরিদর্শক তদন্ত যা করেছেন সেটাই বেআইনি হয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট ঐ কর্মকর্তাকে মামলার সিডিসহ তলবের আদেশ দেয়। একইসঙ্গে মামলায় র‌্যাবের বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন। 

ইত্তেফাক/এএএম