আজ মহান বিজয় দিবস। পৃথিবীর স্বাধীন দেশগুলোতে স্বাধীনতা দিবস থাকলেও স্বাধীনতা দিবসের পাশাপাশি বিজয় দিবস থাকার ঘটনা বিরল। এই বিরল মর্যাদা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এবারে মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫০ তম বিজয় দিবস। তরুণদের বিজয় ভাবনা লিপিবদ্ধ করেছেন এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ
সাদিয়া আফরিন জুঁই
শিক্ষার্থী, যশোর মেডিকেল কলেজ
বিজয়ের ৪৯ বছর পেরিয়ে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ও অর্জন অনেক। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি আমরা। পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে করতে পারছে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে মাতৃমৃত্যু হার নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে, বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের গড় আয়ু। তবে যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পথচলা শুরু হয়েছিল তার অনেকটাই এখনো পূরণ হয়নি। দুর্নীতি, শিক্ষাখাতে প্রশ্নফাঁস, বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতা, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা থেকে আমরা মুক্তি পাইনি। ১৯৭৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আত্মপ্রবঞ্চনার ঊর্ধ্বে উঠে আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের আত্মশুদ্ধির পথে নিয়ে যেতে হবে। আত্মসংযমের পথ বেছে নিতে হবে।’ এ কথাগুলো ধারণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
মাহবুবুল ইসলাম আকাশ
শিক্ষার্থী, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
বাঙালির জাতীয় জীবনে সবচেয়ে বেশি গৌরবদীপ্ত দিন বিজয় দিবস। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কাঙ্ক্ষিত এই স্বাধীনতা অর্জিত হলেও আমাদের সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি; আসলে সংগ্রামের কোনো শেষ নেই। দেশ গড়ার সংগ্রামও আমাদের সবার! দেশ নিয়ে আমরা যারা আক্ষেপ করি, এ দেশ ও সরকারকে দোষারোপ করি, সেই আমরাই বা কতটুকু করেছি দেশের জন্য? সমস্যা থাকবেই। বাস্তব জীবন এবং হলিউডের সিনেমার মধ্যে পার্থক্য অনেক। বাঙালি হিসেবে প্রত্যেকেরই দেশের প্রতি কিছু কর্তব্য রয়েছে। কেবল বিজয় দিবসের একটি দিনই নয়, বরং বিজয়ের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে প্রত্যেক বাঙালির উচিত সারা বছরই দেশ-জাতি, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে কাজ করে যাওয়া।
