ফুলবাড়িতে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব

এক সপ্তাহে আক্রান্ত শতাধিক চিকিত্সা নিচ্ছে হাসপাতালে

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৮

অমর চাঁদ গুপ্ত অপু, ফুলবাড়ি (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে তীব্র শীত পড়ায় ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দিজ্বরসহ বিভিন্ন প্রকার রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে শিশুসহ নানা বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে এসব রোগে আক্রান্ত শতাধিক ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা যায়, শীতের কারণে উপজেলায় বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষত ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দিজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ জন রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও কমিউনিটি ক্লিনিক ও গ্রাম্য চিকিত্সকের কাছে প্রতিনিয়ত অনেক রোগী চিকিত্সা নিচ্ছেন। এদের মধ্যে শিশু, প্রসূতি ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। গত সাত দিনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত ২৫০ জন রোগীকে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধা রয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৩০ জন চিকিত্সা নিয়েছেন এবং চারজন শিশুসহ সাতজন আন্তঃবিভাগে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের রওশন আরা বেগম বলেন, তার দুই বছরের শিশুকন্যা রাহি জান্নাত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিত্সা নিচ্ছে। এখন তার মেয়ে সুস্থ। উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের বাগড়া গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, দুইদিন আগে গত বুধবার তার দুই বছরের শিশুকন্যা আনিসা ডায়রিয়াসহ সর্দিতে আক্রান্ত হলে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। এখন সে অনেকটাই সুস্থ। পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের আহম্মেদ আলী বলেন, তার চার বছরের ছেলে আহসান হাবীব ডায়রিয়াসহ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত চারদিন থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন রয়েছে। এখন প্রায় সুস্থ হয়ে গেছে বিকেল নাগাদ বাড়ি নিয়ে যেতে পারবো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা.সঞ্জয় কুমার গুপ্ত বলেন, বর্তমানে যেসব রোগী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসছেন তাদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বরসর্দিতে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেশি। তবে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা শ্বাসকষ্ট, এজমা, হাঁপানি ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীকে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে এসব রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর এ সময় এসব রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। গত সাত দিনে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শতাধিক রোগী চিকিত্সা নিয়েছেন। এসব রোগীকে যথাযথভাবে চিকিত্সাসেবাসহ রোগীদের সুস্থ করে তুলতে চিকিত্সক, নার্সসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে যেটুকু ওষুধ প্রয়োজন হচ্ছে তা নিজেদের মধ্যেই সংগ্রহ করে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এরজন্য রোগীদেরকে বাহির থেকে কোনো ওষুধ কিনতে হচ্ছে না।