নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। এছাড়া ঐ গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এ দুই আসামি নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে একলাশপুর ইউনিয়নের খালপাড় এলাকায় ঐ গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালায় দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও আবদুর রহিম। ঘটনার ৩২ দিন পর ৪ অক্টোবর দুপুরে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় রবিবার রাতেই দুটি মামলা হয়। গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনায় সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ৪ অক্টোবর রাতেই সন্ত্রাসীদের ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো ঐ নারীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক উত্পল চৌধুরীর কাছে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পিবিআই চট্টগ্রাম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল গতকাল দুপুরে মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে নোয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে অভিযোগপত্রগুলো জমা দেন। এ সময় পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তার আগে সকালে পিবিআই জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার ইকবাল জানান, নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন, ধর্ষণচেষ্টা ও ধর্ষণের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা দুই মামলার অভিযোগপত্রে এজাহারে নাম থাকা ৯ জনের মধ্যে এক জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর এজাহারে নাম আসেনি এমন আরো ছয় জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে ১০ জন গ্রেফতার ও চার জন পলাতক আছে। তিনি আরো বলেন, পুরো ঘটনার পেছনে মালয়েশিয়া প্রবাসী জামাল উদ্দিন মূল ভূমিকা রাখে। জামাল উদ্দিন ঘটনার পেছনে থাকায় মামলার এজাহারে তার নাম উঠে আসেনি। তবে তদন্তকালে বিভিন্ন সাক্ষীর সাক্ষ্য, গ্রেফতার, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, জব্দকৃত আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তাকে মামলায় প্রধান হোতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। জামাল উদ্দিন ছাড়াও অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে আবদুর রব ওরফে চৌধুরী মিয়া, মিজানুর রহমান তারেক ও মোস্তাফিজুর রহমান আরিফ পলাতক রয়েছে।
এদের সঙ্গে অভিযুক্ত অপর ১০ আসামি হলো—দেলোয়ার হোসেন দেলু, নূর হোসেন বাদল, মো. আব্দুর রহিম, মোহাম্মদ আলী ওরফে আবুল কালাম, ইসরাফিল হোসেন মিয়া, মাইন উদ্দিন সাজু, সামছুদ্দিন ওরফে সুমন, নূর হোসেন রাসেল, আনোয়ার হোসেন সোহাগ ও মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে সোহাগ মেম্বার। এরা সবাই এখন কারাগারে আছে।
গ্রেফতার অপর দুই আসামি রহমত উল্লাহ ও মাঈন উদ্দিন সাহেদকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রহমত উল্লাহকে মামলার এজাহারে আসামি করা হয়েছিল। আর মাঈন উদ্দিন সাহেদকে তদন্তকালে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ঐ মামলার দুই আসামি দেলোয়ার হোসেন দেলু ও মোহাম্মদ আলী ওরফে আবুল কালামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে জেলা কারাগারে আটক রয়েছে। তাদের মধ্যে আবুল কালাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বিবস্ত্র করে নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার মামলায় ৪৮ কার্যদিবসে তদন্ত শেষ করা হয়েছে। এই মামলার তদন্তে মোট ৩০ জনের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। আর গ্রেফতারকৃদের মধ্যে ছয় জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে যে মামলা দায়ের করা হয়, সেই মামলার তদন্ত এখনো চলছে।
