মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র প্রাঙ্গণে শুরু হয় পুরনো সংবাদপত্র প্রদর্শনী। ১৯৭১ সালে বিজয়ের ক্ষণে সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিজয়ের সংবাদসমূহ প্রদর্শিত হয় প্রদর্শনীতে।
৪৯তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ‘সংবাদপত্রে বিজয়গাঁথা’ শীর্ষক এ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি(ডুজা)।বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) আয়োজিত প্রদর্শনীতে স্থান পায় মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন সময়ের দুর্লভ ছবি ও সংবাদপত্র।
বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এ সময় উপাচার্যের সাথে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভূইয়া।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল কবিরসহ সংগঠনের নেতারা। এবারের আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে শতাধিক আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তথ্য আদান প্রদান চলমান থাকবে। কেননা একসময়ে এগুলো পত্রপত্রিকায় প্রতিফলিত হয়েছিলো, তখনকার পাঠক সমাজ এটি পাঠ করতেন অনুধাবন করতেন। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম গবেষক ছাড়া কেউই এগুলো আগ্রহ ভরে দেখে না। এই প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে অগণিত দর্শক এগুলো দেখবেন, খানিক সময়ের জন্য হলেও তারা মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে পূর্বের সেই মূল্যবোধ ফিরে যেতে পারবেন।
এদিকে ডুজার’র প্রদর্শনী চিত্রে সেই সময়ও ধর্মের নানা রকম অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা প্রতিফলিত হয়েছে উল্লেখ করে ঢাবি উপাচার্য বলেন, উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বহিঃপ্রকাশ সেদিন পাকিস্তানী হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসররা ঘটিয়েছিলো। তারা ব্যক্তিগতভাবে চিঠিপত্র লিখতো, পত্রিকায় লিখতো ও সভা সমাবেশের আয়োজন করতো, যেখানে ধর্মের অপব্যাখ্যা থাকতো।আজকেও কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী থাকে, যারা নানাভাবে ধর্মের অপব্যাখা দিয়ে মানুষের মাঝে বিভেদ তৈরি করে। এবং বিভিন্ন সভ্যতার স্মারকসমূহ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। এগুলো ১৯৭১ এর অনভিপ্রেত ঘটনাগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তাই আমরা খেয়াল রাখবো, উগ্র অশুভ সাম্প্রদায়িক শক্তি অপব্যাখার কারণে যাতে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনার উদ্রেক না ঘটে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মাটি চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক শক্তির দেশ। এ দেশে প্রত্যেক মানুষ তাদের নিজের ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতি নিয়েই বসবাস করে। সেই সভ্যতার ধারা অব্যাহত থাকবে সেটাই প্রত্যাশা।
আলোকচিত্র প্রদর্শনী সম্পর্কে সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল কবির বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মুক্তিযুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গৌরবময় ভূমিকার কারণে বাংলাদেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসকে করেছে এক ও অভিন্ন। সে কারনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি প্রতিবারের মতো বিজয় দিবসে ব্যতিক্রমী আয়োজনের অংশ হিসেবে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তৎকালীন সংবাদপত্রে বিজয়ের ঘটনাগুলো কিভাবে বর্ণিত হয়েছে তার বার্তা পৌঁছাবে।
ইত্তেফাক/এএএম
