বৃক্ষ

শাল

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:২৩

শাল সোজা কাণ্ডবিশিষ্ট পত্রঝরা প্রকৃতির বৃক্ষ। বাংলায় এটি শাল ও গজারি নামে পরিচিত। সংস্কৃতে  অশ্বকর্ণ, কৌশিক ইত্যাদি নামে পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম  Shorea robusta, এটি Dipterocarpaceae  গোত্রের বৃক্ষ। ২৫-৩০ মিটার উঁচু হয়। ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, রংপুরের বিখ্যাত গজারি বনই শাল বৃক্ষের প্রধান বন। শালগাছ কাটলে তার গোড়া থেকে পুনরায় গাছ গজায় বলে স্থানীয় জনসাধারণ শালগাছকে গজারিগাছ বলে আখ্যায়িত করে থাকে। মূলত শালের কাটা মোথা থেকে গজানো চারাই গজারি নামে পরিচিত। 

শাল ফুল নরম, রোমশ ও সাদা। তবে সাদা পাপড়িতে হলদে আভা আছে। পাপড়িতে আছে হলদে আঠা। ফুল ১.২৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। ফল ১-২ সেন্টিমিটার লম্বা। ফল ধরে মে-জুন মাসে। শালের চারার বাকল ধূসর বাদামি। বড় গাছের বাকল ঘন বাদামি ও ফাটা ফাটা। কাঠ ঘন বাদামি, শক্ত, দীর্ঘস্থায়ী এবং মজবুত। শাল পাতা ১০-২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতা মসৃণ ও চকচকে। ফুলের বর্ণ পীতাভ। জুন-জুলাই মাসে ফল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। লাল মাটি অঞ্চলে খুব ভালো জন্মে। কাণ্ডের ব্যাস ২-২.৫ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। ফাল্গুন মাস ছাড়া এই গাছে পাতা সব সময়ই দেখা যায়। মার্চ মাসে ফুল ফোটে।

বাংলাদেশ ও ভারত শালগাছের আদি নিবাস। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল থেকে শুরু করে মিয়ানমারেও শালগাছ জন্মায়। বাংলাদেশে ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও উত্তরাঞ্চলের বনভূমিতে শালগাছ জন্মে। বীজ ও কপিসিংয়ের মাধ্যমে (মোথা থেকে গজানো চারা) শাল বংশবিস্তার করে থাকে। বংশবিস্তার প্রাকৃতিকভাবেই হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট জাতের মাটি ও আবহাওয়ার তারতম্যের বড় ভূমিকা আছে এই গাছের বংশবিস্তারে। বাংলাদেশে ভাওয়াল ও মধুপুরের গড়ে গড়েওঠা বনে এই গাছের আধিক্য রয়েছে। ধারণা করা হয়, এটি ভারতবর্ষের স্থানীয় গাছ। দক্ষিণ হিমালয় থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত এই গাছ প্রচুর দেখা যায়। গাছে প্রচুর পাতা সব সময়ই দেখা যায় বলে একে প্রায় চির সবুজ বৃক্ষ বলা যায়।

শাল কাঠ শক্ত হওয়ায় এর অনেক ব্যবহার রয়েছে। আয়ুর্বেদ ক্ষমতাও আছে এই গাছের। এর আঠা রক্ত-আমাশয় নিবারণ করে। আগুনে দিলে আঠা থেকে সুগন্ধ বের হয়। এই গাছ থেকে উত্পন্ন ধূপ পাইনগাছের ধূপের মতোই। শাল কাঠ খুব শক্ত প্রকৃতির। খয়েরি রঙের এ কাঠ বিভিন্ন ধরনের খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পলিশ ভালো না হওয়ায় এ কাঠ ফার্নিচারের জন্য ব্যবহার কষ্টসাধ্য হলেও এই কাঠ ভার বহনে উপযোগী বলে এর ব্যবহার খুব জনপ্রিয়। খুঁটি, দরজা-জানালার ফ্রেম, রেলের স্লিপার, গরুর গাড়ির চাকা, বাস-ট্রাকের বডি তৈরিতে ব্যাপক হারে শাল কাঠ ব্যবহার হয়। শালের ডালপালা, পাতা ও পরিত্যক্ত অংশ উত্কৃষ্ট জ্বালানি। শালের মোথা ও অন্যান্য অংশ থেকে ভালো মানের কাঠকয়লা তৈরি করা যায়। শালের ফুল মৌচাকের উপযোগী। শালের বীজ থেকে তেল পাওয়া যায়। বাকলে ট্যানিন এবং রঞ্জক আছে।  শালে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য রোগবালাই দেখা যায় না।

শালগাছের প্রাকৃতিক গুণাবলিও অনেক। চির সবুজ বৃক্ষ হওয়ায় বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণে সক্ষম বলে গাছটি প্রকৃতির ভারসাম্যকে ঠিক রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। শালগাছের শক্ত বাকল মাটির ক্ষয় রোধ করতে সক্ষম। গাজীপুর, মধুপুরের পাহাড়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য রক্ষাকারী এই শালগাছ এঁটেল মাটির বিশেষত্বকে আরো অনন্য করে তুলেছে। মাটি দূষণরোধেও শালগাছের শিকড় কাজ করে। মাটির ক্ষয়রোধ 

 

ও মাটির বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য এই গাছের অবদান অনেক।