অনিশ্চিয়তায় দিন কাটছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। করোনার পর থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা চললেও পাবলিকে শুধু অনলাইন ক্লাস চলছে। সঙ্গে কয়েকটিতে স্থগিত ও শেষ বর্ষের পরীক্ষাসমূহ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
তবে অনলাইনের মাধ্যমে কতটা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ, অনলাইন পরীক্ষায় নকলসহ বিভিন্ন অনৈতিক অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ থেকে যায়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সহজেই পরবর্তী সেমিস্টার কিংবা বর্ষে উঠে যেতে পারেন, অন্যদিকে যথাযথ মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারেন মেধাবী শিক্ষার্থীরা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারলেও বেশির ভাগ শিক্ষার্থী পড়ালেখার বাইরেই রয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে মনে প্রশ্ন জাগে, গরিব, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা পিছিয়ে পড়ছেন না তো?
দেশের পাবলিক বিদ্যালয়গুলোতে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী গরিব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। বাংলাদেশে করোনা আসার পর থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। শুরু থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিভিন্ন কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সুযোগের অভাব, ঐকমত্যের অভাব ও অদূরদর্শিতার কারণে অনলাইন ক্লাস শুরু না করলেও বর্তমানে চলছে। তবে বিভিন্ন সমস্যার কারণে ক্লাসে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম হওয়ায় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
ক্লাসের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন কিংবা ক্লাস টেস্টের মতো মেধা যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতার পদ্ধতি রয়েছে। অনলাইনে ক্লাস নেওয়া গেলেও বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেক্ষাপটে পরীক্ষা নেওয়াটা একরকম অসম্ভব বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অ্যাসাইনমেন্ট সীমিত পরিসরে শিক্ষকেরা নিলেও প্রেজেন্টেশনের ক্ষেত্রে বাধার দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই ইন্টারনেট। কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী গ্রামের এবং বর্তমানে সবকিছু বন্ধ থাকায় গ্রামেই অবস্থান করছে তারা। ফলে দুর্বল নেটওয়ার্ক কিংবা ক্ষণে ক্ষণে নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্নতার শিকার হচ্ছে। ক্লাসরুমের কিছুটা সুবিধা অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পূরণের চেষ্টা করা গেলেও এ ক্ষেত্রে একেবারেই স্থবির হয়ে আছে ল্যাবভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম, যেটি শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিতি ছাড়া সম্ভব নয়।
ক্লাস শুরু হলেও পরীক্ষা নিয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা ইউজিসি দেয়নি। ফলে পাবলিকের শিক্ষার্থীদের সেশনজটে পড়ার আশঙ্কা খুব বেশি। ইউজিসির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দিলেও পাবলিকের শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর কোনো নির্দেশনা না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
আমার সঙ্গে কলেজে পড়া আমার এক বন্ধু নগরীর এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ সেশনে ভর্তি হয়ে বর্তমানে বিবিএ শেষ করে চাকরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাক্ষাত্কার দিচ্ছে, অথচ আমিও উক্ত সেশনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এখনো ৪র্থ বর্ষের প্রথম সেমিস্টার শেষ করতে পারিনি। যেখানে প্রাইভেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেশনজট ছড়াই অনায়াসে চলছে, সেখানে পাবলিকের শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়ে যাচ্ছে।
যত তাড়াতাড়ি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরোদমে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করা যাবে, শিক্ষাথীদের তত তাড়াতাড়ি হতাশা ও সেশনজট থেকে রক্ষা করা যাবে। শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিশ্চায়তা পাবে। স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পরও শিক্ষাক্ষেত্রে এই অনিশ্চয়তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
n লেখক :শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
