সেনাবাহিনী নামাতে শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল হেফাজত

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:৩১

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সেই পরিকল্পনাটি ছিল হেফাজতের তত্কালীন মহাসচিব ও বর্তমান আমির আল্লাম জুনায়েদ বাবুনগরীর। তার ধারণা ছিল, হেফাজত সারা রাত শাপলা চত্বরে অবস্থান করলে দেশে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে তা সামাল দিতে সেনাবাহিনী নামতে বাধ্য হবে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্মমহাসচিব সলিমুল্লাহ।

প্রয়াত আহমদ শফীর জীবনকর্ম, অবদান শীর্ষক আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত পুরো ঘটনার দায়ভার জুনায়েদ বাবুনগরীকে নিতে হবে। তত্কালীন আমির শাহ আহমদ শফীকে না জানিয়ে হেফাজতের নেতাকর্মীদের রাতভর শাপলা চত্বরে রেখে দেন বাবুনগরী। সারা রাত শাপলা চত্বরে অবস্থান নিতে পারলে সেনাবাহিনী নামতে বাধ্য হবে, এমন ধারণা থেকেই তিনি এই পরিকল্পনা করেন। মতবিনিময় সভায় আরো দাবি করা হয়, হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা আহমদ শফীর মৃত্যুর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন।

সভায় সাবেক হেফাজত নেতা সলিমুল্লাহ বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের মিটিং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। আল্লামা আহমদ শফী হুজুরও চেয়েছিলেন সন্ধ্যা ৬টায় কর্মসূচি শেষ করতে। কিন্তু বাবুনগরী সারা রাত অবস্থান নেওয়ার কথা বলেন। তিনি হুজুরকে জানান, সারাদেশ থেকে মাদ্রাসার ছেলেরা শাপলা চত্বরের উদ্দেশে আসছে। সারা রাত থাকতে পারলে সেনাবাহিনী নামবে। এরপর তিনি হুজুরকে না জানিয়েই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। হুজুর মুখ ফুটে একটি কথাও বলেননি। বাবুনগরীর ব্যক্তিগত ইচ্ছায় শাপলা চত্বরের অবস্থান দীর্ঘায়িত হয়েছে।

মতবিনিময়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজত ইসলামের সাবেক যুগ্মমহাসচিব ও ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের মহাসচিব মো. ফয়জুল্লাহ অভিযোগ করেন, শাহ আহমদ শফীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি। হেফাজতের বর্তমান কমিটি ভেঙে দিয়ে সবাইকে নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান হেফাজত ইসলামের সাবেক যুগ্মমহাসচিব মাইনুদ্দিন রুহী।

সভায় শাহ আহমদ শফীর পরিবারের পক্ষ থেকে শ্যালক মো. মঈন উদ্দিন ও ছেলে হেফাজতের সাবেক প্রচার সম্পাদক আনাস মাদানী বক্তব্য রাখেন। এছাড়া আলেম-ওলামাদের মধ্যে নুরুল ইসলাম, নুরুল আলম, ইয়াসিন হাবিব, শামসুল আলমসহ আরো কয়েক জন বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদের মেজবাহুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক আব্দুল জব্বার।