ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচি :গাফিলতি কাম্য নহে

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫০

রাতকানা রোগ প্রতিরোধে কর্মসূচির অংশ হিসাবে আজ ১৯ জানুয়ারি সারাদেশে ৬ হইতে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াইবার কর্মসূচি ছিল। কিন্তু ক্যাপসুলের মান লইয়া প্রশ্ন উঠিবার কারণে এইবারের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াইবার কর্মসূচি স্থগিত করিয়াছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে যে, সংরক্ষিত কোনো কোনো ক্যাপসুলে ছত্রাক ধরিয়াছে। তাহা ছাড়া, ক্যাপসুলগুলি একটির গায়ে অপরটি লাগিয়া যাইতেছে। মাঠপর্যায় হইতে এমন অভিযোগ আসিবার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নূতন করিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সময় লইয়াছে। যদিও ক্যাপসুলগুলি একটির সহিত আরেকটি লাগিয়া থাকা মানে ইহা নহে যে, ক্যাপসুলের ভিতরের উপাদানগুলির মানও নষ্ট হইয়া গিয়াছে। তবে প্রকৃত অবস্থা কী—তাহা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হইবার জন্য দুইটি টিম গঠন করিয়াছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

আজকের স্থগিত এই কর্মসূচিতে সারাদেশের প্রায় দুই কোটি ২০ লক্ষ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াইবার কথা ছিল। এত বিপুল সংখ্যক শিশুকে যাহা খাওয়ানো হইবে, তাহার মান লইয়া হেলাফেলার অবকাশ নাই। তুলনামূলক অভাবী পরিবারের শিশুদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভিটামিন ‘এ’ খাদ্যগুণের অভাবে শিশুদের রাতকানা রোগ হইয়া থাকে।  অতীতে আমাদের দেশে রাতকানা রোগের প্রাদুর্ভাব থাকিলেও ১৯৯৪ সাল হইতে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়াইবার কর্মসূচি চালুর পরে ক্রমশ রাতকানার সমস্যা কমিয়া আসিয়াছে। ভিটামিন ‘এ’-র অভাব ঘটিলে আমাদের রেটিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কোষের বিকাশ ব্যাহত হয়। প্রকৃতপক্ষে, তীব্র আলো এবং ক্ষীণ আলোতে আমাদের চোখ ‘দেখিবার’ জন্য ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে। রাতের বেলায় আলো কম থাকে বলে ভিটামিন ‘এ’র অভাবে রাতেই দেখিতে সমস্যা হয় অর্থাত্ রাতকানা হয়। ইহার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় জানা যায়, আমাদের দর্শনানুভূতির জন্য চোখে দুই ধরনের সেন্সর থাকে। এই দুই সেন্সরে থাকে দুই ধরনের কোষ। ইহাদের নাম ‘রড’ কোষ এবং ‘কোন’ কোষ। আলো যখন তীব্র থাকে তখন ‘কোন’ কোষগুলি সক্রিয় থাকে। কিন্তু মানুষ যে শুধু উজ্জ্বল আলোতেই দেখে তাহা নহে, বরং অন্ধকারেও দেখিতে পায়। একটি ঘর ঘুটঘুটে অন্ধকার করিয়া ফেলিলে শুরুতে আমরা কিছুই দেখি না। কিন্তু লক্ষ্য করিলে দেখিতে পাইব কয়েক মিনিটের মধ্যে অন্ধকার ঘরের জিনিসপত্র দৃশ্যমান হইতে শুরু করে। আসলে, আমাদের চোখের রেটিনাতে প্রায় ১০ কোটি ‘রড’ কোষ এবং ৭০ লক্ষ ‘কোন’ কোষ থাকে। রাতের বেলায় অত্যন্ত ক্ষীণ আলোর ভিতরে কোটি কোটি ‘রড’ কোষ জাগিয়া উঠিলে তাহার উপর পতিত অতি সামান্য আলোর সমন্বয়েই মস্তিষ্কে একটি সাদাকালো ছবি তৈরি করিতে পারে। ভিটামিন ‘এ’-র অভাব হইলে ‘রড’ কোষগুলির কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই কারণে ভিটামিন-এ শিশুদের প্রথম পাঁচ বত্সরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এইবারে ভিটামিন-এ কর্মসূচিতে মান লইয়া প্রশ্ন উঠায় সময় থাকিতেই ইহার এই স্থগিতাদেশ দেওয়াটা নিঃসন্দেহে দায়িত্বশীলতার পরিচয়। তবে কেন এমনটি হইল, তাহা যথাযথভাবে মীমাংসা করিবার মাধ্যমে এই দায়িত্বশীলতার পূর্ণতা দিতে হইবে।