বিনম্র শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালিত

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৫৮

বিনম্র শ্রদ্ধা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে পালিত হলো শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দিবস-২০২০। বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে দিবসটি পালন করা হয়।

দিনব্যাপী আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সকাল ১০টায় বনানী কবরস্থানে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত এবং সকাল ১১টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আজিমপুরস্থ নতুন কবরস্থানে কোরআনখানি, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে সন্ধ্যা ৬টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত উপস্থিতি ও জুম মিটিং অ্যাপের মাধ্যমে পালন করা হয়। 

আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে ছিল পুনর্মিলনী, সংবর্ধনা ও স্মৃতিচারণ। এই পর্বে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের সদস্য ও অতিথিদের সংবর্ধনা দেয়াসহ যুদ্ধকালীন সময়ের বীরত্ব ও স্মৃতি রোমন্থন করেন উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাগণ। অনুষ্ঠানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন, বিশেষকরে শহীদদের পরিবারবর্গকে সম্মানের সাথে জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা করার ব্যাপারে তাগিদ দিয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক, এমপি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের সভাপতি শান্ত-মারিয়াম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. আহসানুল কবির ও শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্ট অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগ, চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক শিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর শামসুন নাহার ও রেজিস্ট্রার স্থপতি হোসনে আরা রহমান। 

অতিথিবৃন্দের মধ্যে আরও ছিলেন মো. মতিউর রহমান, এয়ার ভাইস মার্শাল এসএম জিয়া-উর-রহমান, সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান, হাজী মো. নূর হোসেন ও নীপা চৌধুরী, ডিরেক্টর, ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার, ঢাকাসহ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বিভিন্ন সদস্যবৃন্দ। শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী লিলি ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মজিবুর রহমান দিলু।

উল্লেখ্য, যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরার পথে এক মর্মান্তিক নৌকাডুবিতে সলীল সমাধি ঘটে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত এর ১১জন সহযোদ্ধার। দিনটি ছিল ১৭ ডিসেম্বর-১৯৭১। উক্ত ঘটনা যোদ্ধা শান্তকে ভিশনভাবে মর্মাহত করে। তাই তিনি প্রত্যেক ১৭ ডিসেম্বরকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেন। যার ধারাবাহিকতায় এবারও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্ত-মারিয়াম একাডেমীর শিশু কিশোর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সঙ্গীত, নৃত্য ও তথ্যচিত্র পরিবেশন করা হয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি