নিউজিল্যান্ড সফর
স্পোর্টস রিপোর্টার
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে হোম সিরিজের ছুটিতে ইংল্যান্ড ফিরে গিয়েছিলেন স্টিভ রোডস। যাওয়ার আগেই বলেছিলেন, ফিরে এসে বিপিএলের খেলা দেখবেন। কথার নড়চড় হয়নি। গত ১২ জানুয়ারি ফিরে এসেছেন বাংলাদেশে। মিরপুর, সিলেটে প্রেসিডেন্ট বক্সে বসে বিপিএলের ম্যাচ দেখছেন বাংলাদেশের হেড কোচ।
বিপিএল দেখলেও রোডসের মাথায় ঘুরছে নিউজিল্যান্ড সফর। কারণ আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। বিপিএল শেষ হবে ৮ ফেব্রুয়ারি। বিপিএলের ফাইনালে যেসব ক্রিকেটার খেলবেন না তারা দেশ ছাড়বে হয়তো ৭ ফেব্রুয়ারি। ফাইনালিস্ট দলের ক্রিকেটাররা উড়াল দিবেন পরদিনই। নিউজিল্যান্ডের মতো কঠিন সফরের আগে বলার মতো প্রস্তুতির কোনো সুযোগই নেই বাংলাদেশের সামনে। কোচ হিসেবে রোডসের সেটি ভালো না লাগারই কথা।
দুই বছর আগেও (২০১৭ সালে) এমন বিপিএলের পর তাড়াহুড়ো করে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। চলমান বিপিএল নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য আদর্শ প্রস্তুতি নয়। তা রোডস অকপটেই বলে দিয়েছেন। গতকাল সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তুতি নিয়ে নিজের মনের খচখচানিটা লুকাতে চেষ্টা করেননি তিনি।
বিপিএলে ক্রিকেটাররা খেলছেন মন্থর, লো বাউন্সের উইকেটে। নিউজিল্যান্ডে হবে পুরো বিপরীত উইকেট। বাউন্স থাকবে। বলও ব্যাটে আসবে। কিন্তু তেমন উইকেটে খেলতে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ নেই মাশরাফি-সাকিবদের সামনে।
গতকাল নিউজিল্যান্ড সফরের প্রস্তুতি নিয়ে রোডস বলেছেন, ‘আমরা যে এরকম উইকেটে খেলে যাচ্ছি, নিউজিল্যান্ড যেন না জানে! (হাসি)। সত্যি বলতে, বিপিএল খেলেই সরাসরি নিউজিল্যান্ডে ওয়ানডে খেলতে যাওয়া আদর্শ প্রস্তুতির ধারে কাছেও নয়। কিন্তু এ নিয়ে কি-ই বা করার আছে আমাদের! বিপিএল দারুণ টুর্নামেন্ট। কোনো একটি সময়ে আয়োজন করতেই হতো, এই সময় করা ছাড়া আর উপায় ছিল না।’
নিউজিল্যান্ডে তিনটি ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হবে ১৩, ১৬ ও ২০ ফেব্রুয়ারি। তাও তিনটি পৃথক ভেন্যুতে। পরে তিনটি টেস্টও খেলবে বাংলাদেশ। রোডস বলছেন, বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। টেস্ট দলের ক্রিকেটাররা মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় পাবেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা এই বাস্তবতা বুঝি। যারা ওয়ানডে দলে থাকবে, এটির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। আমরা জানি, ওয়ানডে সিরিজের জন্য আমাদের প্রস্তুতিতে খুব তাড়াহুড়ো থাকবে। কিন্তু আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে এবং যে ম্যাচই আসুক, জয়ের চেষ্টা করতে হবে। টেস্ট যারা খেলবে, ওরা একটু সময় পাবে মানিয়ে নেওয়ার। আশা করি, ওদের সমস্যা হবে না।’
নিউজিল্যান্ড সফরের পর বাংলাদেশের মিশন হবে বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সেখানে বিশ্বকাপের ভালো প্রস্তুতি হবে বলেই মনে করেন রোডস। তিনি বলেছেন, ‘আয়ারল্যান্ড সফর আমাদের জন্য ভালো প্রস্তুতি হবে। দেশ ছাড়ার আগে মিরপুরে আমাদের ছোট্ট একটি ক্যাম্প হবে। তারপর আয়ারল্যান্ডে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্বাগতিকদের সঙ্গে খেলে ভালো অভিজ্ঞতা হবে। ওখানকার ঠাণ্ডা ও ভেজা আবহাওয়ায় মানিয়ে নিতে হবে। বিশ্বকাপের জন্য ইংল্যান্ডে যেতে যেতে উইকেটগুলো শুষ্ক হতে শুরু করবে। আশা করি, দল তখন জয়ের ধারাবাহিকতায় থাকবে।’
অতীতে নিউজিল্যান্ডে তিন ফরম্যাটে কখনোই জয় পায়নি বাংলাদেশ। তারপরও ওয়ানডেতে ভালো কিছুর আশা ছাড়ছেন না রোডস। ইংলিশ এই কোচ বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডে জেতা অনেক কঠিন হবে অবশ্যই। তবে যদি আমরা ভালো কিছু ফল বের করে আনতে পারি, ওয়ানডেতে আমরা সঠিক পথেই থাকব।’
