পঞ্চগড় জেলার উপকূলীয় গোয়ালপাড়া গ্রামে দীর্ঘ ৫০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সামাজিক সংগঠন ‘ষড়ঋতু জগদল’ ও ‘ড্রিমার্স এইড ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে তেঁতুলিয়া হাইওয়ে রোড ধরে ছয় কিলোমিটার উত্তরে এবং হাইওয়ে রোড থেকে এক কিলোমিটার পশ্চিমে এই গ্রামের অবস্থান। গ্রামের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত ‘চাওয়াই’ নদী, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ভেঙে চলেছে। ভিটাবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষেরা। ঐ জরিপ অনুযায়ী গ্রামে ১৭১ পরিবারের বসবাস। ৯টি পরিবার চাওয়াই নদীর তীরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে, ৪২ পরিবার ভূমিহীন, ১২৯ পরিবারের রয়েছে শুধু বাড়িভিটা। অন্যের জমি বর্গাচাষ করে ৫০ পরিবার, দিনমজুর পরিবারের সংখ্যা ৫০, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে ২৪ পরিবার, অন্যান্য পেশায় জড়িত ৪৭ পরিবার, একটি পরিবার কর্মহীন, কর্মজীবী (চাকরি) পরিবার মাত্র ৩টি। ১৭১ পরিবারের মধ্যে নিরক্ষর পরিবারের সংখ্যা ১৩৬। অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন পরিবার মাত্র ৩৬টি। ছেলেমেয়ের বিয়েতে যৌতুক লেনদেন করেছে ১০০ পরিবার। জীবন-জীবিকার তাগিদে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছে ১১৪ পরিবার। ১০৬ পরিবার চিকিত্সা নেয় হাতুড়ে ডাক্তার বা কবিরাজের কাছে। নেই বিদ্যুত্, না আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চলাচলে ব্যস্ত কাঁচা রাস্তাটি রোদ-বৃষ্টিতে ধুলো-কাদায় মাখামাখি। প্রায় ঘরের ছেলেমেয়েদের বিয়ে হয়েছে বাল্যকালেই, নেই সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা। এই গ্রামের শত পরিবারকে ঋণ দিয়েছে এনজিও প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা সচেতনতায় কোনো ভূমিকা রাখেনি উন্নয়নকর্মীরা। সরকার সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যক্তিদেরও গ্রামটির প্রতি নজর নেই। রিকশা-ভ্যান, পাথর উত্তোলন, হোটেল শ্রমিক, ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে শিশু-কিশোররা। ছোটখাটো ড্রেন-কালভার্ট সংস্কার করা হচ্ছে। রাস্তা পাকা করার বিষয়টি স্থানীয় সরকারের, এক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ার নেই।
রহিম আবদুর রহিম
পঞ্চগড়
