অতলান্ত ক্ষুধা

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:৫৪

তবুও ভালো

রায়হানের শিশু কন্যার দুধের টাকায় কেনা হয়নি

যৌন শ্রমিকের সস্তা সুগন্ধি কিংবা বিলেতি মদ।

 

ভাইজির জন্য পাঠানো ফুপুর বিশটি পাউন্ড

হয়তো সযত্নে জমানো ছিল ভাবির গোপন তহবিলে।

টকিংডল কেনার জন্য দাদুর দু’হাজার টাকাও ছিল ঘরে।

 

তবুও ভালো

সুযোগ পায়নি লোভী আকবর সে টাকায় রোদচশমা

কিংবা ঝকঝকে হাওয়াই শার্ট কেনার।

 

পুত্রের বাঁচার আকুতিতে দিশাহারা পিতা ছুটে গিয়েছিলেন

মুঠোবন্দি করে তার সমস্ত সঞ্চয়। তবুও ভালো,

সুযোগ হয়নি দেওয়ার সেই নিষ্ঠুর কুলাঙ্গারের হাতে।

 

আর কত শিশুর খাদ্য, গৃহিণীর গোপন সঞ্চয়, বৃদ্ধের

শেষ সম্বল পেলে, আর কত নখ ওপড়ালে, ভেঙে দিলে

গোড়ালির হাড়, আর কত শিশু পিতৃহীন হলে

কত মায়ের হাহাকারে ভরবে তোদের অতলান্ত ক্ষুধা?

 

কবে পড়বে মনে, তোদেরও তো স্ত্রীর কোল আলো করে

বসে আছে শিশু দু-তিনটি, ঘরের দাওয়ায় বসে থাকেন

বৃদ্ধা মা এক, তার ছেলে আসবে বলে।

 

চতুষ্পদির হিংস্রতার অন্ত উদর পূর্তিতে, অন্তহীন তোদের

ক্ষুধা, লালসা অতলান্ত ভাঁড়ার তোদের—

রক্ত, নখ, হাড়-মাংস, কিছুতেই যায় না ভরা।