সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদা বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর হাই কমিশন প্রাঙ্গণে মিশন কর্মকর্তাবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে পরিপূর্ণ কোভিড প্রটোকলের মধ্যে হাইকমিশনার মো. তৌহিদুল ইসলাম জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচীর সূচনা করেন। এরপর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও দেশের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী প্রেরিত ভিডিও বার্তা প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রেরিত বাণী পড়ে শোনানো হয়।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অবদান শ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করেন। হাইকমিশনার মো. তৌহিদুল ইসলাম বাঙালী জাতির স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলনে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। হানাদার বাহিনীর হাতে নির্যাতিত মা-বোনদের আত্মত্যাগ এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানও তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

হাইকমিশনার সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন লালিত ‘সোনার বাংলা’ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহবান জানান। আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার, সিঙ্গাপুর-এর সভাপতি এম এ রহিম বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ‘মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস’ শিরোনামের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশি, সিঙ্গাপুর ভিত্তিক বিভিন্ন সামাজিকও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃদ এবং হাই কমিশনেরকর্মকর্তা/কর্মচারীগণ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিগণকে মধ্যাহ্নভোজনে আপ্যায়িত করা হয়।
ইত্তেফাক/বিএএফ
